মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সিলেটে করোনাভাইরাসের টিকাদান বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের ছুটি শেষে সবকিছু খুললেও নগরীর টিকার বুথগুলো খোলা হয়নি। গত দু'দিন অনেকে টিকা কেন্দ্রে গিয়ে বুথ বন্ধ থাকায় ফিরে এসেছেন। এ জেলায় প্রায় ৩২ হাজার টিকা গ্রহীতার দ্বিতীয় ডোজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শুধু সিলেট নগরীতে এই সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভাগীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করে সিলেট সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে উপজেলাগুলোতে টিকাদান তদারকি করে সিভিল সার্জন কার্যালয়। মজুদ শেষ হওয়ায় চলতি সপ্তাহে পুরো বিভাগেই টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাবে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশের মতো সিলেটে অক্সফোর্ডের টিকা দেওয়া শুরু হয়। নতুন করে এই টিকা না আসায় দেশে সংকট দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশে গত ২৬ এপ্রিল থেকে সিলেটেও প্রথম ডোজের টিকাদান বন্ধ করা হয়। ১৩ মে থেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকাদানও বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তা কবে কাটবে; তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না। এই বিভাগের অপর তিন জেলা হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে কয়েকশ টিকা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঈদের দু'দিন আগে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন করে টিকা না এলে কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত নগরীতে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৯২ জন। এর পর থেকে প্রথম ডোজের সঙ্গে দ্বিতীয় ডোজও শুরু হয়। গত ৮ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত গড়ে দেড় থেকে দুইশ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এই হিসাবে নগরীতে প্রায় ৬২ হাজার জন প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে মজুদ শেষ হওয়ার আগে ৪৬ হাজার ৪০০ জনের মতো দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন।

সিলেট নগরীর মতো বিভাগের চার জেলা ও উপজেলাগুলোতে টিকার মজুদ শেষের পথে। ফলে বর্তমানে ধীরগতিতে কার্যক্রম চলছে। সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, সিলেট জেলার অধিকাংশ উপজেলায় টিকার মজুদ শেষ। যে কয়েকটি উপজেলায় এখনও টিকার মজুদ রয়েছে, তাও এক-দু'দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয় হাজারের মতো ডোজ টিকা মজুদ রয়েছে। তবে ১১ উপজেলার বিপরীতে তা খুব বেশি নয়। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৬২ হাজারের মতো প্রথম ডোজ এবং ৩৪ হাজারের মতো দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. কেএম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, যে টিকা আছে তাতে আরও এক সপ্তাহের মতো কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ বলেন, এ জেলায় ৬৭ হাজার ৫৬৭ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। রোববার পর্যন্ত ৫১ হাজার ২০৫ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন