নওগাঁর আত্রাই উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার সোয়েব হোসেনকে কুপিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গত রোববার সকালে উপজেলা পরিষদ নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় নিজের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এ হামলা হয়। তিনি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় সোয়েবের স্ত্রী বাদী হয়ে গতকাল সোমবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম ও তার ছেলে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাব্বীসহ ১২ জনের নামে আত্রাই থানায় মামলা করেছেন।

মামলার পর ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন সোয়েব হোসেন। এ সময় অতর্কিতভাবে মির্জা রাব্বীর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এক দল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার পর এক পর্যায়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর পর আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।

সোয়েবের স্ত্রী সাবরিনা সুলতানা ঝর্ণা বলেন, তার স্বামীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং ঠিকাদারি ব্যবসার বিরোধে ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগমের নির্দেশে সোয়েবকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম জানান, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ঠিকাদারি ব্যবসার ৬৫ লাখ টাকা, ঋণ বাবদ আরও দুই লাখ; মোট ৬৭ লাখ টাকা সোয়েবের কাছে পাওনা রয়েছে তার। পাওনা টাকা দিতে সোয়েবকে তারা বহুবার অনুরোধ করেছেন। এ নিয়ে দেন-দরবারও হয়েছে। কিন্তু সোয়েব টাকা পরিশোধ করেননি। মমতাজ বেগম দাবি করেন, ওই দিন কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তিনি জানেন না।

আত্রাই থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এজাহারভুক্ত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।

মন্তব্য করুন