নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে গোপনে বিয়ে করেছেন- কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসা সেই সাঈদা আক্তার শিউলি এবার খোরশেদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। রোববার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার আসামি করা হয়েছে ফেরদৌসী আক্তার রেহেনা নামে এক মানবাধিকার কর্মীকেও। শিউলির দাবি- কাউন্সিলর খোরশেদ ও রেহেনা আক্তার ফেসবুক লাইভে এসে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে সমকালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে শিউলির ভয়ংকর প্রতারণার কাহিনি। আগে তার আরও তিনটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামী ওসমান গনির সঙ্গে ১৫ বছর সংসার করেন তিনি। ওই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্বামীর নাম জহির। ওই সংসারে তার একটি মেয়ে রয়েছে। জহিরকে তালাক দিয়ে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর তারেকুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। বিয়ের মাত্র এক বছর পরেই শিউলি তারেকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় যৌতুকের জন্য মারধর এবং প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ শিউলির নজর পড়ে কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খোরশেদের ওপর। গত বছরের জুনে করোনায় আক্রান্তদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের মজুদ গড়ে তোলেন খোরশেদ। তখন শিউলিও একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দেন। সে সময় দু'জনের মধ্যে পরিচয় এবং ফেসবুকে বন্ধু হয়। এক পর্যায়ে খোরশেদ জানতে পারেন শিউলি তারই ছোট বেলার বন্ধু মামুনের ছোট বোন। মামুন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। পরিচয়ের পর থেকে শিউলি খোরশেদের সঙ্গে ফোনে ও মেসেঞ্জারে কথা বলতেন এবং চ্যাটিং করতেন। এক পর্যায়ে শিউলি খোরশেদকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে খোরশেদ হতবাক হয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে সাঈদা আক্তার শিউলি সমকালকে বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই কাউন্সিলর খোরশেদ আমার পরিচিত। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর খোরশেদ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রথমে রাজি না হলেও পরে গত বছরের ২ আগস্ট আমার মালিকানাধীন সোনারগাঁর কাঁচপুরে এসএস ফিলিং স্টেশনে খোরশেদের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় খোরশেদ আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন।' শিউলির এমন বক্তব্যের বিষয়ে কাউন্সিলর খোরশেদ বলেন, 'বিয়ে হয়ে থাকলে কাবিননামা দেখাক। তাছাড়া সে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানতে পেরেছি। এ জন্য এক আইনজীবীর সঙ্গে সে আলোচনাও করেছে।'

মন্তব্য করুন