দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে দেশের এভিয়েশন খাতের নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। করোনাকালেও পুরোদমে এগিয়ে চলেছে নির্মাণকাজ। শুরুর ১৬ মাসে কাজের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ২০ শতাংশ বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তারা জানান, চলমান করোনা মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, শ্রমিকসহ প্রায় চার হাজার লোক কাজ করছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান সমকালকে জানান, করোনাকালেও পুরোদমে এগিয়ে চলেছে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে নির্মাণকাজের প্রায় ২০ শতাংশ দৃশ্যমান। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাণকাজে অর্থায়ন করেছে জাইকা। জাপানের সিমুজি ও কোরিয়ার স্যামসাং যৌথভাবে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দুই দেশের কয়েকশ দক্ষ জনবল কাজ করছে। প্রখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিনের নকশায় টার্মিনালে দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি ভবন তৈরি হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন মূল ভবন মাটির নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত উঠেছে। ভবনের পিলারগুলো ভূমি থেকে প্রায় ছয় থেকে সাত ফুট উচ্চতায় রয়েছে। পাশাপাশি মাটি, বালু ভরাটসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ চলছে। বিদেশি প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে কাজে ব্যস্ত নির্মাণ শ্রমিকরা। সরকারের অগ্রাধিকার এই মেগা প্রকল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ শ্রমিকরা দিনরাত কাজ করছেন।

বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল মালেক সমকালকে বলেন, প্রায় পাঁচ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারে ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখার অ্যাপ্রোন ও এক হাজার ২৩০টি গাড়ি রাখার সুবিধা, ৬৩ হাজার বর্গফুট জায়গায় আমদানি-রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্স, ১১৫টি চেক ইন কাউন্টার থাকবে। বহির্গমনে ৬৪ ও আগমনী যাত্রীদের জন্য থাকবে ৬৪টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার। এ ছাড়া ২৭টি ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, ১১টি বডি স্ক্যানার, ১২টি বোর্ডিং ব্র্রিজ ও ১৬টি লাগেজ বেল্ট থাকবে।

বেবিচক সংশ্নিষ্টরা আরও জানান, রেসকিউ ও ফায়ার ফাইটিং স্টেশন, ইকুইপমেন্ট চার হাজার বর্গমিটার, ভূমি উন্নয়ন, কানেক্টিং ট্যাক্সিওয়ে (উত্তর) ২৪ হাজার বর্গমিটার, কানেক্টিং ট্যাক্সিওয়ে (অন্যান্য) ৪২ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, র‌্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে (উত্তর) ২২ হাজার বর্গমিটার, র‌্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে (দক্ষিণ) ১৯ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, শোল্ডার ৯৬ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, জিএসই রোড ৮৩ হাজার ৮০০ বর্গমিটার, সার্ভিস রোড ৩৩ হাজার বর্গমিটার, ড্রেনেজ ওয়ার্কস (বক্স কালভার্ট ও প্রোটেক্টিভ ওয়ার্কস), বাউন্ডারি ওয়াল, সিকিউরিটি গেট, গার্ড রুম ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, ল্যান্ড সাইড, সার্ভিস রোডসহ এলিভেটেড রোড ও ফানেল টানেল রাখা হবে।

মন্তব্য করুন