খুলনা নগরীর কাস্টমঘাট এলাকায় নির্মিত হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম গণহত্যা জাদুঘর। ২০১৪ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি প্রথমে ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম শুরু করে। পরে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে একতলা বেজমেন্টসহ ৬ তলা ভবন। ইতোমধ্যে ভবনের বেজমেন্টের কাজ শেষ পর্যায়ে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জাদুঘরটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি প্রদর্শনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে।

জাদুঘর থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৭ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনের উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর হিসেবে খুলনায় যাত্রা শুরু করে গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর। সংক্ষেপে যেটি 'গণহত্যা জাদুঘর' নামেই পরিচিত। খুলনায় স্থাপিত এ জাদুঘরটি বাংলাদেশের এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা-নির্যাতনের স্মৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ প্রতিষ্ঠান নানা প্ল্যাটফর্মে কাজ করছে।

সূত্রটি জানায়, প্রথমে একটি ভাড়া বাড়িতে শুরু হয় জাদুঘরের কার্যক্রম। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরীর ২৬ সাউথ সেন্ট্রাল রোডের দ্বিতল একটি বাড়ি জাদুঘরের জন্য বরাদ্দ দেন। বর্তমানে সেই ভবনটি ভেঙে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে ৬ তলা অত্যাধুনিক জাদুঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

এছাড়া সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আরেকটি বিশেষ প্রকল্প 'গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র' গত ৪ বছর ধরে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার গবেষণায় কাজ করছে। তৈরি করছে সারাদেশের গণহত্যা-বধ্যভূমি, গণকবরের তালিকা ও এগুলোর ডিজিটাল ম্যাপিং। এই সময়টায় জাদুঘর স্থানান্তরিত হয়েছে ৪২৪ সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় ফেজ) ৬ নম্বর রোডে।

জানা গেছে, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে সভাপতি ও শিল্পী হাশেম খানকে সহসভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে জাদুঘরটি পরিচালিত হয়।

১৯৭১ :গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক ড. চৌধুরী শহীদ কাদের সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে মূল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। পরবর্তীকালে সেখানে ১৫০ আসনের মিলনায়তনসহ আরও অনেক কিছু সংযোজন করা হবে। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও ভবনের কাজ চলছে। ২০২২ সালের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন