ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার পর পরিচয় গোপন করে হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যায় নির্র্র্র্র্র্র্র্র্র্যাতনকারীরা। পরে পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করে। গত ১৩ মে মনির হোসেন (৪৫) নামের ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছিল। কুমিল্লা নগরীর অদূরে দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গত ১৬ মে স্বজনরা মনিরের খোঁজে থানায় গিয়ে নিহত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পুলিশের কাছে থাকা লাশের ছবি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন তারা। মনির জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বলারামপুর এলাকার মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে। তিনি একই উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ফেরি করে গৃহস্থালি মালপত্র বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় রোববার রাতে নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম আটজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মনির তার একটি মোবাইল ফোন মেরামত করার জন্য দুর্গাপুর এলাকার তৌহিদের কাছে দেন। তবে মোবাইল সেটটি ফেরত না পেয়ে ১১ মে সন্ধ্যায় মনির দোকানে গেলে তৌহিদ তাকে মারধর করে। পরে তাকে মোবাইল চোরের অপবাদ দিয়ে তৌহিদের অন্য সহযোগীরা মারধর করে। ১৩ মে সকালে আবারও একই ব্যক্তিরা তাকে বাসার অদূরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পেয়ে মারধর করে। এরপর ঘোড়ামারা কৃষ্ণনগর গ্রামে তৌহিদের বাড়িতে নিয়ে মারধর করে। এতে মনির গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় নির্যাতনকারীরা। এ সময় জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে মনিরের নাম ও পরিচয় অজ্ঞাত হিসেবে লেখা হয়। রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরদিন হাসপাতাল থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ ময়নাতদন্তের পর মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুলে হস্তান্তর করে। ১৫ মে নগরীর টিক্কাচর কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে মনিরের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

অভিযুক্তরা হচ্ছে ঘোড়ামারা কৃষ্ণনগর গ্রামের তৌহিদ, মনির, এরশাদ, আজাদ, রাশেদ মিয়া, জাহিদ, আমির আলী ও আরিফ হোসেন। অবিলম্বে ঘটনায় জড়িত সব আসামির গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন সালমা বেগম।

পুলিশের ধারণা, মনিরকে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি, বেলচাসহ অন্যান্য জিনিস দিয়ে পিটিয়ে ও আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তার সারাশরীরে জখমের চিহ্ন ছিল। এরই মধ্যে রক্তমাখা বেলচা, রশিসহ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গতকাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক সমকালকে বলেন, সকালে আসামিদের বাড়ি থেকে কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

মন্তব্য করুন