প্রায় এক যুগের প্রচেষ্টায় রুই মাছের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিএফআরআই উদ্ভাবিত উন্নত জাতের 'সুবর্ণ রুই' বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে রুই মাছের চতুর্থ প্রজন্মের একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। নতুন এ জাতটি দ্রুত বর্ধনশীল, মূল জাতের চেয়ে ২০ দশমিক ১২ শতাংশ অধিক উৎপাদনশীল, খেতে সুস্বাদু এবং দেখতে

লালচে ও আকর্ষণীয়। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে রুই মাছের চতুর্থ প্রজন্মের এ জাতটি উদ্ভাবিত হওয়ায় এ জাতটিকে 'সুবর্ণ রুই' নামকরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ অনুষ্ঠানিকভাবে 'সুবর্ণ রুই' মৎস্য অধিদপ্তর ও কয়েকজন হ্যাচারি মালিকের কাছে অবমুক্ত করেন। 'সুবর্ণ রুই' হিসেবে নামকরণের ফলে চাষি, হ্যাচারি মালিক ও উদ্যোক্তাদের কাছে নতুন এ জাতটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে এবং মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন। এতে সামগ্রিকভাবে দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে বিএফআরআই।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউিটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ।

বিএফআরআই জানায়, দেশে চাষযোগ্য মাছের মধ্যে রুই সবচেয়ে বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন মাছ। বর্তমানে মৎস্য চাষ প্রায় সম্পূর্ণভাবে হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হ্যাচারিতে উৎপাদিত কার্প জাতীয় মাছের কৌলিতাত্ত্বিক অবক্ষয় ও অন্তঃপ্রজননজনিত সমস্যা মৎস্য চাষ উন্নয়নে বিশেষ অন্তরায়। এ থেকে উত্তরণে ২০০৯ সালে রুই মাছের উন্নত জাতের প্রথম প্রজন্মের উদ্ভাবন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অবশেষে ২০২০ সালে উন্নত জাতের চতুর্থ প্রজন্মের জাত তৈরি করা হয়েছে।

বিএফআরআইর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল 'সুবর্ণ রুই' চাষিদের মুখে হাসি ফেরাবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে 'সুবর্ণ রুই' দেশের জন্য বিশেষ উপহার।

বিষয় : 'সুবর্ণ রুই'

মন্তব্য করুন