সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে বিটুমিন উঠে গেছে আরও বছর খানেক আগে। সেখানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টিতে গর্ত রূপ নিয়েছে বড় ডোবায়। সেই গর্ত দিয়ে হেলেদুলে চলছে যানবাহন। প্রায়ই সেখানে ইজিবাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। কাদাপানিতে নাকাল হচ্ছেন মানুষ। আশপাশের লক্ষাধিক মানুষের কষ্টের নাম এখন খুলনা নগরীর 'মুজগুন্নী মহাসড়ক'।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে বয়রা বাজার হয়ে নতুন রাস্তা পর্যন্ত সড়কের নাম মুজগুন্নী মহাসড়ক। প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কটি সর্বশেষ সংস্কার হয় ২০১২ সালে।

সংস্কারের অভাবে এর পুরোটাই খানাখন্দে ভরে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বয়রা বাজার থেকে নতুন রাস্তা মোড় পর্যন্ত। এমন দুর্ভোগের মধ্যে সড়কের একপাশ খুঁড়ে বিদ্যুতের তার বসাচ্ছে পিডিবি। এতে চার লেনের সড়কের দুই লেন বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সড়ক দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। উল্টে যাওয়ায় রিকশাও প্রায় বন্ধ। এখন ইজিবাইকে ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষ।

সম্প্রতি সড়ক ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। খুলনা বিভাগের একমাত্র বিশেষায়িত শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, ৫০০ শয্যার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স, বিজিবির খুলনা সেক্টর সদর দপ্তর, খুলনার শীর্ষস্থানীয় দুটি স্কুল-কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের কেডিএর দুটি বৃহৎ আবাসিক এলাকা- এসবই খুলনা সিটি করপোরেশনের মুজগুন্নী মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থিত। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম মহাসড়কটি।

গত সোমবার ইজিবাইকে সড়ক পরিদর্শনের সময় ছয় কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগে ৩৭ মিনিট। বৃষ্টির কারণে খানাখন্দগুলো পানিতে পরিপূর্ণ ছিল। তিন দফায় গর্তে পড়ে ইজিবাইক উল্টে যেতে বসেছিল। ঝুঁকি চরমে পৌঁছানোয় ৩টি স্থানে লাল কাপড় দিয়ে গর্ত চিহ্নিত করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। ভাঙাচোরা হওয়ায় এ সড়কে যানবাহনও অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী বহনকারী বাসগুলো চলাচল বন্ধ। সড়কটি পরিদর্শনের সময় রিকশাও চোখে পড়েনি। সড়কের দুর্ভোগের সঙ্গে যানবাহন সংকটও এখন বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুজগুন্নী মহাসড়কের বিপরীতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার নাহিদ পারভীনের বাসভবন। তিনি জানান, প্রতিদিন কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেই যাতায়াত করতেন। কিন্তু খানাখন্দের কারণে গত সপ্তাহ থেকে এই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ প্রায় ১০-১২ কর্মকর্তা এখন বয়রা বাজার পর্যন্ত ইজিবাইকে যান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতে হয়।

মহাসড়কের পাশে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইন্স। এর প্রধান ফটকের সামনে বিশাল দুটি গর্ত। ওই গর্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় পুলিশ সদস্যদের। কেএমপির উপকমিশনার (সদর দপ্তর) এহসান শাহ্‌ সমকালকে বলেন, প্রতিদিন সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া কত যে দুর্ভোগের, তা বলে বোঝানোর নয়। দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।

কেসিসির ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও মেরামত প্রকল্পের পরিচালক মশিউজ্জামান খান করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান সমকালকে বলেন, ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য আগে ড্রেন নির্মাণের পরই সড়ক সংস্কার করা হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি শীতেই ড্রেনের কাজ শুরু হবে। এই কাজ শেষে আগামী বছর সড়ক সংস্কার কাজ হবে। এর আগে ইট ও সুরকি দিয়ে সড়কটি চলাচল উপযোগী করা হবে।

বিষয় : সড়কে দুর্ঘটনা

মন্তব্য করুন