বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) নির্মাণকাজের খোঁড়াখুঁড়িতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে রাজধানীর উত্তরা পর্যন্ত যাতায়াতে। বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। দিন দশেক ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এই অংশে ১২ কিলোমিটার পথ পার হতে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগছে। পরিস্থিতি এতই খারাপ হয়েছে, এ রাস্তায় বাস চালানো বন্ধের চিন্তা করছেন মালিকরা।

মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো সড়ক যানজটে স্থবির। গাড়ি যেন চলছেই না। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে পার হয়ে যাচ্ছে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। গাজীপুর মহানগরের মালেকের বাড়ি, বোর্ডবাজার, গাজীপুরা এলাকায় দেখা যায়, খোঁড়াখুঁড়িতে ভাঙাচোরা সড়ক কাদায় মাখামাখি। মহাসড়কের দুই পাশে ১২ করে ২৪ কিলোমিটার হাই ক্যাপাসিটি ড্রেন নির্মাণকাজে আসেনি। সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমেছে। বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি জমে। পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কের খানাখন্দে পড়ে গাড়ি বিকল হচ্ছে। এ কারণে যানজট আরও বাড়ছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকার সমকালকে বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকায় আসতে ১০ ঘণ্টা লাগছে! দেশে কি কোনো নিয়ম-কানুন নেই! এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই! এ অবস্থা চললে বাস বন্ধ করে দিতে হবে মালিকদের।

শাহজাহান মাস্টার নামে এক স্কুলশিক্ষক ফেসবুকে লিখেছেন, 'এত জ্যাম! টঙ্গীর গাজীপুরায় আটকে আছি। মনে হচ্ছে আজ রাত রাস্তায় কাটবে। ঠিকাদারের গাফিলতিতে জনজীবনে দুর্ভোগ।' তৌহিদুর রহমান তুহীন আকন্দ নামে আরেকজন লিখেছেন, ' উত্তরা থেকে সকাল ৭টায় রওনা হয়ে দুপুর ২টায় গাজীপুর আসলাম।'

আশরাফুল আলম, নামে এক যাত্রী জানান, চান্দনা চৌরাস্তা থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত ১৫ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু যানজটে লাগছে ৬ ঘণ্টা সময়। বিআরটি প্রকল্পের ম্যানেজার কায়সার আহমেদ সমকালকে বলেন, দু-একটি পয়েন্টে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে বর্ষা চলে এসেছে। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সেখানে যানজট হচ্ছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ট্রাফিক দক্ষিণ) উপকমিশনার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, বিআরটির কাজ চলায় সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি মহাসড়কের অনেক জায়গায় নিস্কাষিত হচ্ছে না। এতে যানজট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।

বিষয় : উত্তরা

মন্তব্য করুন