নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ১৫ দিনে আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে তিন শিশু। রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাসানচরের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীরা। রয়েছে ওষুধ সংকট। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলছেন, তীব্র গরমের পর বৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন কাজ করছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ১৮ হাজার ৩৪৭ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর ক্যাম্পে রয়েছে। তাদের চিকিৎসাসেবায় রয়েছে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল। পাশাপাশি ২০টি কমিউটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এতে আন্তঃ ও বহির্বিভাগের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চিকিৎসাসেবা দিতে ২ জন মেডিকেল অফিসার ও ২ জন উপসহকারী কমিউনিটি অফিসার, ২ জন স্টাফ নার্স, ১ জন মিডওয়াইফ, ২ জন ওয়ার্ডবয় ও ২ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাঁচটি এনজিওর কর্মীরা কাজ করছেন। ভাসানচর থেকে গুরুতর কোনো রোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে রোগী বহনের জন্য সার্বক্ষণিক দুটি অ্যাম্বুলেন্স হাতিয়ার জনতা বাজারে রাখা আছে।

ক্যাম্পের ২০ শয্যা হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। শয্যার অভাবে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় রেখে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। সব মিলিয়ে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাসানচর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে ভাসানচর থেকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের পাঠানো হচ্ছে।

ভাসানচর ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার তানভীর আনোয়ার জানান, হাসপাতালে অন্য রোগী ভর্তি না করে শুধু ডায়রিয়া রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত রোগী বাড়ার কারণে হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তবে নদী উত্তাল থাকার কারণে ওষুধের চালান ভাসানচরে আসতে বিলম্ব হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে তিনজন শিশু মারা গেছে। তারা হলো ক্যাম্পের ১০ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা মো. সিরাজের মেয়ে জয়নব (১), ৫৬ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা জানে আলমের ছেলে জিসান (২) ও ৫৫ নম্বর ক্লাস্টারের আবদুর রহিমের মেয়ে উম্মে হাবিবা (৩ মাস)।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ ছাড়াও তারা সঠিক পদ্ধতিতে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে না পারা, খাওয়ার আগে ও মলত্যাগের পরে সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার না করা এবং তীব্র গরমের কারণে ভাসানচর ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ওষুধ সংকটের বিষয় তিনি নাকচ করে বলেন, খাওয়ার স্যালাইন, কলেরার স্যালাইন, অন্যান্য ওষুধসহ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন গত তিন দিন ধরে ভাসানচর যাওয়ার জন্য হাতিয়ার জনতা ঘাটে গিয়ে ফিরে এসেছেন। সাগরে লঘুচাপের কারণে মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় তারা ওষুধ নিয়ে ভাসানচরে যেতে পারছেন না। যার ফলে সাময়িকভাবে ওষুধ কিছুটা কম থাকতে পারে। আবহাওয়া ভালো হলে পর্যাপ্ত ওষুধ ভাসানচর হাসপাতালে পৌঁছে যাবে। ভাসানচরের ডায়রিয়া পরিস্থিতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে সিভিল সার্জন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিষয় : রোহিঙ্গা

মন্তব্য করুন