দৃশ্যমান হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন। এরই মধ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার ট্র্যাক (রেললাইন) বসানো হয়ে গেছে। চলছে আরও ১০ কিলোমিটার ট্র্যাক বসানোর কাজ। রেললাইন, সেতু-কালভার্ট, স্টেশনসহ সার্বিকভাবে প্রকল্পের ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ট্রেন চালু করতে করোনার মধ্যেও প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এজন্য যেখানে কাজ চলছে, সেখানে শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যাম্প করে রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে যেখানে মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, সেখানেই ট্র্যাক বসাচ্ছে রেলওয়ে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে জেলার চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পর্যন্ত আগে থেকেই রেললাইন রয়েছে। এই রুটে চলাচল করে ট্রেনও। এখন দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হচ্ছে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যে রেললাইন স্থাপন করা হচ্ছে, সেটির কাজ শেষ হলে আরও উন্নতি ঘটবে দেশের পূর্বমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থায়। পাশাপাশি অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সাগরসৈকতের শহর কক্সবাজারের। সারাদেশের সঙ্গে অর্থনীতি, পর্যটন খাতে বিপুল রাজস্ব আয় হবে। বিশেষ করে ২৭টি দেশের ট্রান্স-এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করবে রেললাইনটি। ফলে এই রুটটি চালু হলে এটি আন্তর্জাতিক করিডোরে পরিণত হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি টেন সার্ভিস চালু করা যাবে।

সরেজমিন দেখা যায়, কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের কাহাদিয়া পাড়া থেকে ধলিরছড়া এবং সেখান থেকে পানিরছড়া পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে কমবেশি তিন কিলোমিটার রেললাইনে ট্র্যাক বসানো হয়েছে। মাটির তৈরি রাস্তায় পাথর দিয়ে সেখানে বসানো হচ্ছে ট্র্যাক। শ্রমিক-কর্মচারীদের কেউ কেউ ভরাট করে তৈরি করা রাস্তা ঢালু করা, কেউ কেউ রেললাইনে বসানো পাটাতনের কাজ করছেন। এভাবে যেখানে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, সেখানেই ট্র্যাক নির্মাণে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। মূলত আসন্ন বর্ষায় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কায় মাটির কাজ করে রাখা হচ্ছে। যাতে বর্ষায় ট্র্যাক বসানোর কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের ঝিলংজা পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরি, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, লেভেল ক্রসিং এবং স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। নয়টি স্টেশন, ৩৯টি ব্রিজ-কালভার্ট এবং কক্সবাজারের আইকনিক স্টেশন বিল্ডিংয়ের প্রথম তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বনাঞ্চলের ভেতরে হাতি চলাচলের জন্য দুটি আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে। ওভারপাস তৈরির কাজও চলছে দ্রুততার সঙ্গে। প্রকল্পের আওতায় যেসব স্থানে স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলো হলো- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া, কক্সবাজারের চকরিয়া, ডুলাহাজারা, রামু, ঈদগাঁও, উখিয়া ও কক্সবাজার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর একটি হচ্ছে চট্টগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার রেলললাইন প্রকল্প। ১৮ হাজার ৩৫ কোটি টাকা টাকায় দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল কক্সবাজারের ঝিলংজায় রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের প্রকল্প সহকারী পরিচালক আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, ট্র্যাক স্থাপন, সেতু-কালভার্ট ও স্টেশন নির্মাণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ এখন দৃশ্যমান। এরই মধ্যে আড়াই কিলোমিটার ট্র্যাক বসানো হয়েছে। প্রকল্পে যেসব বড় সেতু রয়েছে, সেগুলোর প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ছোট ছোট সেতু-কালভার্টের কাজ কমবেশি ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কক্সবাজারে ঝিনুক আকৃতির যে স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটির একতলার কাজ শেষ হয়েছে। অন্য স্টেশনগুলোর কাজও চলছে। আশা করছি ২০২২ সালের শেষ নাগাদ এই রুটে ট্রেন চালু করা যাবে।

জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের রামু উপজেলার পানিরছড়া বাজার এলাকা থেকে রেললাইনে ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি অন্যান্য স্থানেও মাটি ভরাটের পর ট্র্যাক বসানোর জন্য রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।

বিষয় : রেললাইন দৃশ্যমান

মন্তব্য করুন