গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল। এর মাধ্যমে সরকার জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করে দিচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার কথা না শুনলে আমরা ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পদযাত্রা করব। সবাইকে এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে 'ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক ফোরাম' আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভার্চুয়াল রাজনীতি করে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা যাবে না। সংসদে আজ পরীমণিকে নিয়ে আলোচনা হয়; কিন্তু শিক্ষা নিয়ে একটা কথাও হয় না। এই লজ্জা আমরা কোথায় রাখি? এই ভুলের সংশোধন কীভাবে হবে? এই ভুলের সংশোধন সরকার করবে না। আজ সবকিছু খোলা। বাজার খোলা, ব্যাংক খোলা, অফিস খোলা। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।

মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী জানেন আজ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়, যদি হলগুলো খুলে দেওয়া হয় তাহলে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে। এই ছাত্ররা তখন ভোট চাই, শিক্ষা চাই, ওষুধ চাই, টিকা চাই, করোনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই, গরিব মানুষের মুক্তি চাই, অর্থ চাই, অন্ন চাই- এসব দাবি করবে। কিন্তু এই সরকার কিছু দিতে পারবে না। এই কারণে আমরা যতই কথা বলি না কেন, সরকার কোনো দাবি মানবে না।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাকে বাঁচাতে হলে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। সবই তো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কেন?

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার নয়। জনগণের সরকার হলে জনগণের কথা ভাবত।

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, করোনায় সব খুলে দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

সভাপতির বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁঁইয়া বলেন, ৩০ জুনের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া না হলে আমরাই প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে বাধ্য হব। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন করার কথা তুলে ধরেন।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুল রহিম, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক আবদুল আউয়াল, হারুনুর রশীদ গাজী, আজিজুল হক রাজা প্রমুখ।

বিষয় : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

মন্তব্য করুন