দু'মাস বয়সের শিশুপুত্রকে ডাক্তার দেখিয়ে বগুড়া সদরের বারোপুর এলাকায় নতুন বাড়িতে ওঠার কথা ছিল রাশেদুল ইসলামের পরিবারের। তাই সঙ্গে করে স্ত্রী ও বাবা-মাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই একটি বাস নিমেষেই কেড়ে নেয় তার বাবা আশরাফুল ইসলাম (৫০), মা পারুল বেগম (৪২) ও শিশুপুত্র রেজওয়ান ইসলামের প্রাণ। গতকাল শনিবার বগুড়ার মহাস্থান এলাকার হাতীবান্ধা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন রাশেদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গোলাপী বেগমও। এদিকে গতকাল কুমিল্লার চান্দিনার ছয়গড়িয়া এলাকায় ট্রাকের থাক্কায় মো. ইসরাফিল নামের এক হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি সাতক্ষীরার সদর উপজেলায়।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি খাইরুল ইসলাম জানান, রাশেদুল ইসলাম বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গাইবান্ধার সাঘাটা এলাকার বাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বগুড়া শহরের ছিলিমপুর এলাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। হাতীবান্ধা এলাকায় পৌঁছলে সেখানে যানজটে আটকে অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সময় রংপুরগামী আহসান এন্টারপ্রাইজের একটি বাস অটোরিকশার ওপর তুলে দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ওই তিনজন মারা যান। এ ছাড়া বাসটি উল্টে গিয়ে বাসের আরও ১০-১২ জন যাত্রী আহত হন।

অন্যদিকে, কুমিল্লার দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মহাসড়কের ছয়গড়িয়া এলাকায় ঢাকামুখী থামানো ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী একটি ট্রাক। এতে ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান ইসরাফিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকের মধ্যে আটকে যান ইসরাফিলের বাবা ও চালক মশিউর রহমান। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

বিষয় : বাসচাপায় প্রাণ গেল

মন্তব্য করুন