ময়মনসিংহে ওয়াক্‌ফ এস্টেটের বেশিরভাগ সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। বেদখল হওয়া জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে স্থায়ী-অস্থায়ী অসংখ্য স্থাপনা। কাগজপত্রে সম্পত্তি থেকে বার্ষিক চাঁদা আদায় করার কথা থাকলেও মোট দাবির অর্ধেকও পাচ্ছে না সরকার। অনেক জায়গায় ওয়াক্‌ফকারীর বংশধররা ওয়াক্‌ফ অস্বীকার করে জমি হস্তান্তর করে দিচ্ছেন। সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাওয়ার কারণে চাঁদাও আদায় হচ্ছে না। দিনের পর দিন এ অবস্থা চললেও ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের।

ওয়াক্‌ফ পরিদর্শকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহে ওয়াক্‌ফ এস্টেট রয়েছে ৩৫৬টি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ সদরে ৪৯, হালুয়াঘাটে ৯, ফুলপুরে ২০, তারাকান্দায় ১, গৌরীপুরে ৬, ঈশ্বরগঞ্জে ৪৭, নান্দাইলে ৩৯, গফরগাঁওয়ে ৮৬, পাগলায় ১, ভালুকায় ৪৮, ত্রিশালে ২৪, ফুলবাড়িয়ায় ৯, মুক্তাগাছায় ১৭টি এস্টেট রয়েছে। এসব এস্টেট থেকে ওয়াক্‌ফ পরিদর্শকের কার্যালয়ে চাঁদা আদায়ের কথা রয়েছে। এসব এস্টেটে জমির পরিমাণ চার হাজার একর এবং এর অধিকাংশই বেদখল হয়ে গেছে।

কিছু নথি ঘেঁটে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এস্টেটগুলোতে চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় আট লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৫ টাকা। পূর্বের বছরের বকেয়া ছিল সাত লাখ ২৭ হাজার ৩৫১ টাকা। বর্ধিত অংশ মিলে ওই অর্থবছরের জন্য আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। কিন্তু কাগজপত্রে জমা হয় সাত লাখ ৯১ হাজার ৪৯৩ টাকা। বকেয়া থাকে সাত লাখ ৯৮ হাজার ১৬৯ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওয়াক্‌ফ এস্টেট থেকে আদায় করার কথা ছিল ১৭ লাখ ৯ হাজার ৯৩৭ টাকা। কিন্তু আদায় করা হয় ৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯ টাকা।

ওয়াক্‌ফ পরিদর্শকের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের অধীনে ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর জেলা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে শেরপুরের ২০টি ওয়াক্‌ফ এস্টেট থেকে ৯৬ হাজার ৭৮০ টাকা আদায়ের কথা থাকলেও আদায় করা যায় সাত হাজার টাকা। জামালপুরের ৩৩টি ওয়াক্‌ফ এস্টেটের এক লাখ ৩৯ হাজার ৪২৮ টাকা আদায় করার কথা থাকলেও আদায় হয় ১৪ হাজার ৭২৫ টাকা। বৃহত্তর ময়মনসিংহের তিন জেলায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট আদায় করার কথা ছিল ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৮৭০ টাকা। কিন্তু আদায় হয় মাত্র আট লাখ ১৩ হাজার ২১৮ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ২৯৬ টাকার মধ্যে আদায় হয় ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪ টাকা।

ওয়াক্‌ফ এস্টেট দেখভালের জন্য তিন বছরের মেয়াদে কমিটি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মোতাওয়াল্লিও নিয়োগ করা হয়। সম্পত্তি থেকে আয়ের ৫ ভাগ অর্থ বছরে জমা দিতে হয় ওয়াক্‌ফ পরিদর্শকের কার্যালয়ে। বাকি অর্থ এস্টেটের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যবহূত হয়। কিন্তু ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির হস্তান্তরকারী ব্যক্তি মারা যাওয়ায় মোতাওয়াল্লি নিয়োগের পর অনেক ক্ষেত্রে তাদের খুঁজে পান না ওয়াক্‌ফ দপ্তরের কর্মীরা। বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি পাঠানো হলেও চিঠি ফেরত আসে। ওই অবস্থায় ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির আয় ভোগ করছে মধ্যস্বত্ব ভোগীরা। ওয়াক্‌ফকারীর উত্তরাধিকারীরা ও প্রভাবশালীরা জাল কাগজপত্র তৈরি করে সম্পত্তি হস্তান্তর করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ময়মনসিংহ নগরীর নওমহল এলাকায় মৌলভি আহাম্মদ আলী সরকার ওয়াক্‌ফ এস্টেটের প্রায় ১৮ একর সম্পত্তির অধিকাংশই বেহাত হয়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এখানে চাঁদার দাবি ছিল তিন হাজার ৯০০ টাকা। বকেয়াসহ মোট পাওনা ছিল ৯ হাজার ১৪৪ টাকা। যার মধ্যেও এক টাকাও আদায় করা যায়নি। এস্টেটটির সম্পত্তি হাতবদল হয়ে যাওয়া শুরু হওয়ায় কয়েক বছর আগে সেখানে একটি সাইনবোর্ড টানিয়েছিলেন তৎকালীন ওয়াক্‌ফ পরিদর্শক।

বিষয় : বেদখল

মন্তব্য করুন