বিতর্কিত এক শিক্ষককে বাগেরহাটের শরণখোলার মাতৃভাষা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের চলতি দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। কামরুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষক জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট জয়লাভ করার পরদিন ছাত্রশিবিরের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও প্রভাষক কামরুল ইসলাম কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষে থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৫ জানুয়ারি থেকে কামরুল ইসলাম অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাকে চলতি দায়িত্ব থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

২০০১ সালের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কলেজের প্রধান অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম নান্নু বলেন, সেদিন শিবির নেতা কামরুল ইসলাম অধ্যক্ষের কক্ষে থাকা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি দুটি নামানোর পর ভেঙে ফেলেন।

শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম বিএনপি আমলে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করার পরও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়াটা অনভিপ্রেত।

কলেজের সভাপতি মো. আবদুল হক হায়দার বলেন, ছবি অবমাননার বিষয়টি আমি বিভিন্ন মহল থেকে শুনেছি। মূলত ১৫ জানুয়ারি অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার সময় কামরুল ইসলামকে চলতি দায়িত্ব দিয়ে যান। তবে শিগগিরই ম্যানেজিং কমিটির সভা করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে অধ্যক্ষের চলতি দায়িত্বে থাকা কামরুল ইসলাম ছবি ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি যাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না পাই, সে জন্য একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

মন্তব্য করুন