নানা রকম জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি দিয়ে ও দেওয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবদুল মালেক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। এক সময় তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চাকরি করতেন। দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই তিনি চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু করেন। এভাবে ঢাকায় তিনটি ফ্ল্যাট, কুষ্টিয়ায় সুপার মার্কেট, গ্রামে ২৫ বিঘা জমি ও পাকা বাড়ি, একটি কারখানা এবং পাঁচটি বাস-ট্রাকের মালিক হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার গভীর রাতে রাজধানীর মনিপুরীপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ জাল কাগজপত্র ও সিল।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল মালেকের তিন সহযোগীর কথা জানা গেছে। তারা হলেন- আব্দুর রাজ্জাক, আল আমিন ও অবিনাশ। ২০০৪ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি পান মালেক। এরপর থেকে তিনি চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকেন। একপর্যায়ে ২০১০ সালে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০১৫ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করে কর্তৃপক্ষ।

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক জানান, প্রথমে নিজ এলাকা কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সংগ্রহ শুরু করেন মালেক। পরে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৬ সালে তিনি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য একটি কোচিং সেন্টার চালু করেন। এই কোচিং চলাকালেই তিনি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন কোটাভুক্তদের আলাদা করেন। তাদের সঙ্গে নগদ অর্থ বা জমির দলিল জমা রাখার শর্তে চাকরি দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তিতে লেখা থাকত- চাকরির তদবিরের জন্য তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে। চুক্তির মাধ্যমে ঠিক করা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা থেকে অগ্রিমও নিতেন তিনি। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর ছবি পরিবর্তন, প্রশ্ন ফাঁস বা অবৈধভাবে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে পাস করানোর ব্যবস্থা করতেন। চাকরিপ্রত্যাশীদের

পাস করানোর ক্ষেত্রে নকল সনদ ব্যবহার করতেন মালেক। চাকরি পাওয়ার পর কেউ চুক্তি অনুযায়ী টাকা না দিলে তিনি আগে থেকে জমা নেওয়া

দলিলের মাধ্যমে জমি দখল করে নিতেন। আবার অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও চাকরির ব্যবস্থা করেননি।

মন্তব্য করুন