চট্টগ্রামের 'ফুসফুস' সিআরবি রক্ষায় বেলাসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই আদালতে দেওয়ানি মামলা ঠুকে দিয়েছেন দুদক পিপি ও আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাবলু। এতে সরকারের বিভিন্ন স্তরের ১৪ কর্মকর্তা ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতাদেরও বিবাদী করা হয়েছে। বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম সিনিয়র সহকারী জজ ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক রুবায়েত ফেরদৌস এ সমন জারি করেন।

অন্যদিকে প্রতিদিনের মতো সোমবারও সিআরবি সাত রাস্তার মাথায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে হয়েছে বিক্ষোভ। 'শত প্রদীপ প্রজ্বালন ও প্রতিবাদী গানের' আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্টজন। নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক অনুপম সেন ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও আরও বহু সংগঠন হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।

দুদক পিপি কেন হঠাৎ মামলা করলেন- এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনরতরাও তা নিয়ে সংশয়ে পড়ে গেছেন। তাদের প্রশ্ন- তিনি কি দুদকের পক্ষে মামলা করেছেন? জানতে চাইলে কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাবলু বলেন, 'সাধারণ আইনজীবী হিসেবে, মানবাধিকার কর্মী ও পরিবেশ কর্মী হিসেবে এ মামলাটি দায়ের করেছি।' বিবাদীদের লিগ্যাল নোটিশ না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন, 'এ ধরনের মামলা যেহেতু জনস্বার্থসংশ্নিষ্ট, তাই এ ধরনের মামলায় লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নাই।' প্রেস ক্লাবের সভাপতি-সম্পাদককে বিবাদী করার কারণ উল্লেখ করে বলেন, 'তাদের শুধু বিবাদী করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিকার চাওয়া হয়নি। তারা কেবল এসে আদালতে তাদের অবস্থান পরিস্কার করবেন।'

দুদক পিপি ছানোয়ার আহমেদ আরও বলেন, 'সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করা হয়। একই আদলে দেওয়ানি আদালতে মামলা করা যায়। দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ১ আদেশ ৮ বিধি অনুযায়ী জনস্বার্থে প্রতিনিধিমূলক মামলা যে কেউ করতে পারে।'

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, 'মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি দুদক পিপি কাজী সানোয়ার আহমেদ লাবলু আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেছেন। সেখানে ক্লাব ও ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেও বিবাদী করেছেন। উনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী হয়ে কী কারণে এ মামলা করলেন তা বোধগম্য নয় এবং আমাদের বিবাদী করার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।'

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম বলেন, 'আমরা তো সরকারের কেউ না, আমাদের কেন বিবাদী করেছেন এটা যিনি মামলা করেছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। '

সিআরবিতে আলোচনা ও প্রদীপ প্রজ্বালন :সোমবার সন্ধ্যায় ৬টায় সিআরবিতে প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবেশবিদ ড. ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ প্রমুখ।

বিষয় : চট্টগ্রামের 'ফুসফুস' সিআরবি

মন্তব্য করুন