কিছুক্ষণ পরপরই ঘাট এলাকায় ছুটে আসছে শত শত মোটরসাইকেল। এরপর লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষা। ফেরিঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে গাদাগাদি করে উঠে পড়া। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে গতকাল সোমবার দিনভরই এমন দৃশ্য ছিল। পাটুরিয়া ও আরিচায়ও ছিল মানুষের ঢল। ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে গতকাল নৌঘাটগুলোতে ঘরমুখী মানুষ এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ ছিল বেশি। এতে ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটে আটকে ভোগান্তিও পোহাতে হয় যাত্রীদের। তবে যাত্রীর বেশিরভাগই মানেননি স্বাস্থ্যবিধি।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ও লৌহজং সংবাদদাতা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে গতকাল সকালে দেখা যায়, মানুষ নানা পরিবহনে করে শিমুলিয়া ঘাটে আসছে। তবে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল বেশি। অতিরিক্ত মোটরসাইকেলের চাপে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ব্যক্তিগত ও যাত্রীবাহী গাড়ি উঠতে পারছিল না।

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়েত আহমেদ জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ১৫টি ফেরি দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রেখেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। পদ্মায় স্রোতের কারণে পদ্মা পাড়ি দিতে ফেরিতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। শিমুলিয়া লঞ্চঘাট সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরেই শিমুলিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও শত চেষ্টা করেও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাচ্ছে না। শিমুলিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার মো. শাহ আলম বলেন, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে বর্তমানে ৮৪টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে বলা হচ্ছে। নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের লঞ্চঘাট পরিদর্শক জহিরুল কাইয়ুম সাংবাদিকদের জানান, ঘাটে যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে মাইকিং করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন। তবে যাত্রীদের মধ্যে আইন মানার ব্যাপারে অনীহা দেখা গেছে। শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক হাফিজুল ইসলাম জানান, শিমুলিয়া ঘাটের পার্কিং ইয়ার্ড ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পাঁচ শতাধিক যানবাহন পদ্মাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গতকাল পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় ছিল যাত্রীর উপচেপড়া ভিড়। এক শ্রেণির লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকরা যাত্রীদের গাদাগাদি করে পারাপার করছেন। এদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটের পদ্মা-যমুনা নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে সময় বেশি লাগায় এবং আরিচা-কাজীরহাট নৌ-রুটে ফেরিস্বল্পতা ও যানবাহন বাড়ার কারণে এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ যানজট পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের চরের ডাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের ঘাট এলাকায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট নৌ-রুটে ফেরিস্বল্পতা ও নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে সময় বেশি লাগছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ১৬টি এবং আরিচা-কাজীরহাট নৌ-রুটে মাত্র ৩টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করায় ঘাট এলাকায় যানজট দেখা দিয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীর চাপ কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির জানান, ঘাট এলাকা দিয়ে ঘরমুখী যাত্রীরা নির্বিঘ্নে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬ শতাধিক পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নিয়োজিত রয়েছেন। যাত্রীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে।

বিষয় : স্বাস্থ্যবিধির বালাই

মন্তব্য করুন