রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর ছুরিকাঘাতে দুই নার্স ও এক ওয়ার্ডবয় আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে নার্স মিতু রেখার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত অপর দু'জন হলেন নার্স ইমোনা আফরোজ ওরফে কাকলি ও ওয়ার্ডবয় মো. সাগর। আহতদের ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ঘটনার পর থেকে সবুজকে পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে। করোনামুক্ত হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এরই মধ্যে তাকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। তিনি হঠাৎ করে কেন এমনটা করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিক স্থিরতা হারিয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউর শিন শিন জাপান হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৪ বছর বয়সী সবুজ। রোগীদের দেখভাল করার জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন দু'জন নার্স। এরই মধ্যে রাত দেড়টার দিকে তিনি হঠাৎ ফল কাটার ছুরি দিয়ে প্রথমে নার্স মিতু রেখা ও পরে ইমোনা আফরোজকে আঘাত করেন। এ সময় ওয়ার্ডবয় সাগর তাদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের মধ্যে নার্স মিতুর জখম সবচেয়ে গুরুতর। চিকিৎসকরা জানান, তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন।

এদিকে, সবুজের এমন আচরণের পর হাসপাতালের অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে সবুজকে গতকাল শুক্রবার অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরে।

শিন শিন জাপান হাসপাতালের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে আসা রোগীদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। করোনা শনাক্ত হলে তাদের সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৭ জুলাই সবুজ এখানে ভর্তি হন। করোনা শনাক্তের পরও তিনি অন্য হাসপাতালে যেতে চাইছিলেন না। অন্য হাসপাতালে যেতে বলার ক্ষোভ থেকে তিনি এমন কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। যতদূর জেনেছি, ওই রোগী তার স্ত্রীর কাছ থেকে একটি ছুরি নিয়েছিলেন। পরে এক নার্সকে ডেকে ঘুমের ওষুধ চান। চিকিৎসকের অনুমতি না থাকায় তাকে ওষুধ দেওয়া হয়নি। পরে আবার ডাকা হলে নার্স কাছে যেতেই তার পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। অপর দু'জন তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন। এটা পরিকল্পিত কিনা, তা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

উত্তরা থানার ওসি শাহ মো. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, করোনা চিকিৎসায় ব্যবহূত একটি ইনজেকশন শরীরে পুশ করলে রোগীর মানসিক বিকার দেখা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতেই সবুজ যাকে সামনে পেয়েছেন ছুরি মেরেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন