করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ঈদের পর শুক্রবার থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া 'কঠোর' লকডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও রংপুরে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম তৎপরতা দেখা গেছে। বরিশালে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকলেও পাড়া-মহল্লার কিছু চায়ের দোকান খোলা ছিল। লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনকে মাঠে তৎপর দেখা যায়। তবে কিছু উৎসুক মানুষ বিনা কারণে বাইরে বের হয়। লকডাউন বাস্তবায়নে খুলনা, সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কড়া নজরদারি ছিল প্রশাসনের।

লকডাউনের প্রথম দিনে গতকাল রংপুর নগরীতে দোকান বন্ধ থাকলেও যান ও মানুষের চলাচল কম দেখা যায়। মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহল কার্যক্রম চালিয়েছে। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল কম। জেলা প্রশাসনের

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রশাসন কাজ করছে।

বরিশালে রাস্তাঘাট সকাল থেকেই ছিল ফাঁকা, যানবাহন চলাচল ছিল কম। তবে কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দূরপাল্লার বেশ কয়েকটি বাস নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও বাবুগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে পুলিশ সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আবার ফেরত পাঠায়। এদিন নগরে তিনটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গতকাল লঞ্চ-বাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বরিশালে আসা মানুষ নিরাপদেই বাড়ি ফিরতে পেরেছে। কঠোরতা শুরু হয় সকাল ৮টার পর। সকালের দিকে বাজারগুলোতে কিছুটা ভিড় হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ফাঁকা হয়ে যায়।

যানজটের শহর লক্ষ্মীপুর অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে। জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত কিছু যানবাহন ও দোকান ছাড়া অন্যসব বন্ধ ছিল। জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়। কেউ বাইরে বের হলেই

জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। এরপরও অনেকে অযথা বাইরে বের হচ্ছেন।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সড়ক ছিল ফাঁকা। সড়কে রিকশা ছাড়া অন্য কোনো যান ছিল না। চারদিক ছিল জনশূন্য। গতকাল ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা যায়। এদিন নির্দেশনা না মানায় ৯৫টি মামলা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

লকডাউন বাস্তবায়নে খুলনা নগরীতে ৪২টি ও জেলায় ২৬টি চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। টহল দিচ্ছেন র‌্যাবের সদস্যরা। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। সকালে সরেজমিন দেখা যায়, রিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া রাস্তায় তেমন যানবাহন নেই। মানুষের চলাচলও ছিল কম।

সিলেট নগরীর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য ছিল। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করেছে। বিভিন্ন কাঁচাবাজারেও হাতেগোনা ক্রেতা দেখা যায়। বিভিন্ন মোড়ে তৎপর ছিল পুলিশ। এ ছাড়া র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল ছিল।

রাজশাহীতে সকাল থেকেই মাঠে নামে সেনাসদস্য, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিম। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্টে তৎপর রয়েছেন পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম বলেন, অলিগলিতেও প্রশাসন টহল দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় লকডাউন কার্যকরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের কঠোর নজরদারি চলছে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশি টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। ফলে অপ্রয়োজনে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্নিষ্ট এলাকার সমকালের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিরা)

মন্তব্য করুন