চট্টগ্রামে এবার গতবারের তুলনায় কম হয়েছে পশু কোরবানি। যে কারণে কমেছে চামড়া সংগ্রহের হারও। আর সরকার চামড়ার দাম বাড়ানোর পরও এবার কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। চট্টগ্রামে এবার প্রায় দুই লাখ চামড়া সংগ্রহ করার তথ্য জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি। অনেক চামড়া লবণ দিয়ে রাখা হয়েছে মাদ্রাসাসহ গ্রামগঞ্জের অনেক এলাকায়।

চামড়া সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন-সংক্রান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির চট্টগ্রামের প্রধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত চা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ রুহুল আমীন সমকালকে বলেন, ঈদের দিন থেকে গত তিন দিন চামড়ার যাবতীয় বিষয় তদারকিতে টিম নিয়ে মাঠে ছিলাম। এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় দুই লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ করেছি। চট্টগ্রামের বড় দুই মাদ্রাসা থেকে ৩২ হাজারের মতো চামড়া সংগ্রহ করেছি। তবে চট্টগ্রামের উপজেলা থেকে এখনও চামড়া সংগ্রহ সংক্রান্ত তথ্য এসে পৌঁছায়নি। সেটিও শনিবারের মধ্যে এসে পৌঁছবে। সেই তথ্য পাওয়ার পর এবারের চামড়া সংগ্রহের চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া যাবে।

সচিব জানান, গত বছর চট্টগ্রামে তিন লাখ ৫৬ হাজারের মতো চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল। তবে এবার সোয়া তিন লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ জানান, প্রাথমিকভাবে এবার চট্টগ্রামে ছয় লাখ ৮০ হাজার ৩৭৮টি পশু কোরবানির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মহানগরীতে কোরবানি হয়েছে দুই লাখের মতো। গত বছর চট্টগ্রামে প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার পশু কোরবানি হয়। গতবারের তুলনায় এবার কোরবানি হওয়া পশুর সংখ্যা পাঁচ শতাংশ কমেছে। করোনা ও লকডাউনের কারণেই এবার অনেকে কোরবানি দেননি। আর্থিক সংকটের কারণে অনেকে কোরবানি দিয়েছেন ভাগে অন্যের সঙ্গে।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন বলেন, এখনও অনেক চামড়া গ্রামগঞ্জে, ছোট-বড় মাদ্রাসায় এবং অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। লকডাউনের কারণে অনেক চামড়া সংগ্রহ করতে সময় লাগবে। সব মিলিয়ে এবার সোয়া তিন লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ হতে পারে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, এবার গতবারের মতো রাস্তায় চামড়া ফেলা হয়নি। বিভিন্ন উপজেলার অনেক বিক্রেতা চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় আতুরার ডিপো এলাকায় ফেলে যান। পরে সেগুলো ষোলশহর মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়া হয়।

কয়েকজন আড়তদার বলেন, সরকার চামড়ার দাম বাড়ালেও এবার কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায়নি। এতে কিছু চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য ঢাকার ট্যানারি মালিকরা দায়ী। ট্যানারি মালিকরা অনেকের টাকা আটকে রেখেছেন। চট্টগ্রামের উপজেলার গ্রামগঞ্জে প্রায় সোয়া এক লাখ চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে ১১২ আড়তদার কাঁচা চামড়ার ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন। ছোট-বড় ২২৫টি আড়তে চামড়া সংরক্ষণ হয়। এক সময় চট্টগ্রামে ১৫ থেকে ২০টি ট্যানারি থাকলেও এখন আছে শুধু একটি।

মন্তব্য করুন