চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে আসছে উপকূলীয় এলাকার ইলিশ মাছ। এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন এ বাজারে সাগর অঞ্চল থেকে আমদানি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১২শ মণ ইলিশ। চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় মাছ কম ধরা পড়লেও সাগরের ইলিশ চাহিদা মেটাচ্ছে ভোক্তাদের। তবে ইলিশের আমদানি কিছুটা বাড়লেও দাম তেমন কমেনি। গতকাল মঙ্গলবার এ বাজারে উপকূলীয় এলাকার ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১১শ টাকা এবং চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১২শ টাকা দরে। সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে ইলিশের আমদানি আরও বাড়বে এবং দাম কমতে পারে।

ইলিশ মাছের এক ক্রেতা হাসানুর রহমান বলেন, 'ভেবেছিলাম, লকডাউনের মধ্যে ইলিশের দাম কম হবে। এক কেজি ওজনের ৫টি ইলিশ কিনেছি ৬ হাজার টাকা দিয়ে, যার দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি।' ইলিশের আরেক ক্রেতা চাকরিজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, বড়স্টেশন বাজারে ইলিশের দামের ক্ষেত্রে লকডাউনের কোনো প্রভাব পড়েনি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাতিয়া, সন্দ্বীপসহ সাগর অঞ্চল থেকে আসা ফিশিং বোট থেকে ঝুড়ি ঝুড়ি ইলিশ তুলছেন শ্রমিকরা। বাজারে তোলার পর শুরু হয় বিক্রির হাঁক-ডাক। বেশিরভাগ মাছ আবার ঝুড়িতে প্যাকেট করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থ্থানে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের সাগরের ইলিশ প্রতি মণ ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা; ৭শ থেকে ৯শ গ্রামের ইলিশ ৩০ হাজার থেকে ৩৪ হাজার; এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৪০ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।

বড়স্টেশন মাছঘাটের আড়তদার ইমান হোসেন বলেন, মাছের দাম একটু বেশিই। তবে এখন লকডাউনের কারণে বাজারে ক্রেতা কম। তা না হলে ইলিশের দাম আরও বেশি থাকত। লকডাউন উঠে গেলে ইলিশের দাম বাড়বে। তিনি বলেন, আগস্টের শুরু থেকেই ইলিশের আমদানি বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, এখানকার বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৬ টন ইলিশ আসছে। সাগরে কম্বিং অপারেশন শেষ হয়েছে। এখন জেলেরা মাছ ধরছেন। আগামী সপ্তাহ থেকে ইলিশের আমদানি আরও বাড়বে।

মন্তব্য করুন