সারাদেশে জোর গতিতে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম চললেও গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ অনলাইনে নিবন্ধন করতে জানেন না। স্মার্টফোনও নেই অনেকের। দোকানে গিয়ে নিবন্ধন করাতে লাগছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা, সময়ও লাগছে অনেক। ফলে ইচ্ছা থাকার পরও অনেকে নিবন্ধন করতে পারছেন না। এ কারণে টিকা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

এ অবস্থায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলের টিকাপ্রত্যাশীদের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন 'পটিয়া অক্সিজেন সাপোর্ট টিম'। এর সদস্যরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিনামূল্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সেরে দিচ্ছেন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছুটে চলছেন তারা। পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত কারও অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হলে তাদের ফোন দিলেই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

সিলিন্ডার দিয়ে সহায়তার কাজটি গত বছর করোনা সংক্রমণের প্রথম দিক থেকেই শুরু করেন তারা। পাশাপাশি করোনা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সংগঠনের সদস্যরা মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন।

সংশ্নিষ্টরা জানান, গত ১৪ জুলাই থেকে ছনহরা ইউনিয়নের আলমদারপাড়া চত্বরে নিবন্ধনে সহায়তার মাধ্যমে পটিয়া অক্সিজেন টিমের সদস্যরা তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। ছনহরা এলাকার সন্তান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে টিমের ২৩ সদস্য তিনটি টিমে ভাগ হয়ে উপজেলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে টিকার নিবন্ধন করে দিচ্ছেন। পাশাপাশি টিকাকার্ড প্রিন্ট করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন বিনামূল্যে। ২৮ জুলাই পর্যন্ত দুই সপ্তাহে দুই হাজার লোককে এ সেবা দিয়েছেন তারা।

সংগঠনটির উপদেষ্টা পদে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিজন চক্রবর্তী ও পটিয়া সেন্ট্রাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ঝুলন দত্ত। সংগঠনের নেতৃত্বে আরও আছেন চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ সোহেল। তাদের সঙ্গে আছেন শিমুল চক্রবর্তী, নাইম উদ্দিন রিপন, সাজ্জাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম সাগর, মোহাম্মদ সাব্বির, রাসেল কান্তি দে, শহীদুল ইসলাম শহীদ, আবুল হোসেন, সাইদুল হক, সাইফুদ্দিন জোনাইদ, জোবায়েদ হাসান, আরমান আলমদার, নাইম উদ্দিন, শাহেদুল ইসলাম শাহী, সাকিব চৌধুরী, তাজ সোহেল, সাইফুল ইসলাম সাইফু, সুজন, সুমন, তৌহিদুল ইসলাম, মাইনুদ্দিন আদি ও ইফতেকার হোসেন।

সংগঠনের কর্ণধার সেলিম বলেন, করোনার টিকা সহজলভ্য হলেও নিবন্ধন জটিলতায় মানুষ প্রতিষেধকটি নিতে পারছেন না। তাই গ্রামের মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তাদের তিনটি ভ্রাম্যমাণ টিম ফ্রি নিবন্ধন করে দিচ্ছে। পাঁচ হাজার মানুষকে নিবন্ধন করে টিকাকার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাদের।

মন্তব্য করুন