কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) করোনা ইউনিটের জরুরি বিভাগে গতকাল শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে-বাইরে শয্যার অপেক্ষায় করোনা আক্রান্ত অনেক রোগী। শয্যার জন্য রোগীর স্বজনদের ছোটাছুটি। দু'দিন ধরে শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই অক্সিজেন নিচ্ছিলেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে আসা জাহাঙ্গীর আলম। শুক্রবার সকাল থেকে মেঝেতে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার শরীফা বেগম তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের মাত্রা নিচে নেমে যাওয়ায় তার অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছিল। শরীফার স্বজনরা চিকিৎসকদের পেছনে ছুটে গিয়ে বারবার বলছেন, 'প্লিজ, যেভাবেই হোক একটি শয্যা দিন।'

একই সময়ে জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন আরও চারজন করোনা আক্রান্ত রোগী। অভিন্ন চিত্র ছিল কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটেও। একটি শয্যা যেন সোনার হরিণ। রোগীর চাপ বেশি থাকায় সাধারণ শয্যাও পাওয়া যাচ্ছে না। কুমেক ও জেলার সব সরকারি-বেসরকারি হাপসাতালের ৭৭৭টি শয্যার সবক'টি রোগীতে পূর্ণ। আইসিইউ ও সাধারণ শয্যা খালি ছিল না একটিও।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের রেড জোনখ্যাত সীমান্ত জেলা কুমিল্লায় ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে করোনার সংক্রমণ। জেলার ১৭ উপজেলা ছাড়াও হাসপাতালগুলোতে রোগী আসছেন ফেনী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা।

গতকাল বিকেলে প্রাপ্ত তথ্যমতে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৯ জন। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২০-এ। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১৪ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৩৫৮ জন। জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ বেসরকারি সুরক্ষা হাসপাতালে করোনা পজিটিভ ১৮ এবং উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ১২ জন ভর্তি রয়েছেন।

গতকাল বিকেল পর্যন্ত কুমেকের করোনা ইউনিটে ২০১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এখানে ১৮৬টি শয্যার মধ্যে ২০টি আইসিইউ ও ১০টি হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) শয্যা রয়েছে। কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মহিউদ্দিন সমকালকে বলেছেন, জেলার বাইরের উপজেলা থেকেও রোগী আসছে। অনেকেরই অবস্থা খারাপ। আইসিইউ সাপোর্ট দরকার এমন অনেক রোগী রয়েছেন। কিন্তু আইসিইউ বেড খালি নেই। কারও মৃত্যু কিংবা কেউ সুস্থ হলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের আইসিইউ বেড দেওয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন বলেন, কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বর্তমানে ৯০টি সাধারণ শয্যা থাকলেও সেখানে রোগী ভর্তি আছেন ১০০ জন। কুমেক ছাড়া জেলায় সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৫৯১টি শয্যার মধ্যে বিকেল পর্যন্ত রোগী ছিলেন ৫৯৯ জন। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

মন্তব্য করুন