হবৃহত্তম জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড চলতি বছরের মার্চে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড় আনোয়ারায় নির্মাণ করে দেশের প্রথম বেসরকারি ড্রাই ডক জেটি। ওই সময় নির্মাণাধীন দ্বিতীয় জেটির কাজও গত ২৯ জুলাই শেষ হয়। এত দিন বন্দরে জাহাজজটের কারণে পণ্য খালাসে যে ধীরগতি হচ্ছিল, এ দুটি জেটির ফলে সেটি কমে আসবে। একই সঙ্গে বাড়বে রাজস্ব আয়।

দুই জেটিতে মাসে ১০-১২টি জাহাজ একসঙ্গে পণ্য খালাস করতে পারবে। ভিড়তে পারবে ১৭০ মিটার লম্বা দুটি জাহাজ। এরই মধ্যে ১ ও ২ নম্বর জেটিতে নোঙর করে বিএসআরএম এবং আবুল খায়ের গ্রুপের পণ্যবোঝাই ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি জাহাজ। এ জাহাজগুলো প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম।

চট্টগ্রাম বন্দরে ঢোকার পথে একটি গুপ্ত ব্যান্ড বা বাঁক থাকায় বড় জাহাজের পাখা (প্রপেলার) চ্যানেলের বাইরে চলে যেত। এ কারণে ওই জাহাজগুলো বন্দরে ঢুকতে পারত না। কর্ণফুলী ড্রাই ডক জেটিতে এই সমস্যা নেই। কারণ এটি গুপ্ত ব্যান্ডের বাইরে সাগরের দিকে তৈরি করা হয়েছে। জেটি তৈরির পর গত দুই মাসে এখানে দেড় লাখ টন পণ্য খালাস হয়েছে। জেটি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এই দুই জেটি দৈনিক কম করে হলেও ছয় হাজার টন এবং মাসে এক লাখ ৮০ হাজার টন পণ্য খালাস করতে সক্ষম।

বন্দরে জেটি সমস্যায় মাসের পর মাস পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছিল। এই সমস্যা নিরসনে সাবেক বন্দর চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স এই জেটি তৈরি সম্পন্ন করেছে। আরও দুটি জেটি নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে কর্ণফুলী ড্রাই ডক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তারা বলেছে, নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি এসব জেটি নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে নিজেদের শামিল করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

মন্তব্য করুন