রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকার দুটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রধানদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। 'রাহি গ্রুপে'র প্রধান রাহির দাবি- সে সিনিয়র; অন্যদিকে 'সালমান গ্রুপে'র প্রধান সালমানের দাবি- সে সিনিয়র। এ দ্বন্দ্বের জেরে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সালমান ও তার গ্রুপের সদস্যরা তেজগাঁও মহিলা কলেজের সামনে রাহির ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলা থামাতে গিয়ে সালমান গ্রুপের ছুরিকাঘাতে খুন হন ২৫ বছর বয়সী বাঁধন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে তেজগাঁও থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে দু'জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সালমান ও রাহি গ্রুপের সদস্যদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। দুই গ্রুপে ১৫-১৬ সদস্য রয়েছে। পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকার রাস্তা ও দোকানপাটে আড্ডা দেয় তারা। মাঝেমধ্যেই দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে দেখেছেন বাসিন্দারা। তবে মানসম্মান হারানোর ভয়ে এলাবাসীর কেউ তাদের বাধা দিত না।

পুলিশ জানিয়েছে, রাহি ও সালমান দু'জনই নিজেকে সিনিয়র দাবি করত। এ নিয়ে কয়েক দফায় দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। কয়েকদিন আগে ফের সালমানকে মারধর করে রাহি। প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে সালমান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর রাহি তেজগাঁও মহিলা কলেজের সামনের সড়কের পাশে একটি দোকানে বসেছিল। এ খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে সালমান মগবাজার ও বেগুনবাড়ী থেকে কয়েক বন্ধুকে ফোনে ডেকে আনে। এসব বন্ধুসহ গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে সালমান রাহির ওপর হামলা চালায়।

এ সময় বাঁধন এ মারামারি ঠেকাতে যান। এরই মধ্যে পালিয়ে যায় রাহি। বাঁধনের কারণে রাহি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে- এমন অভিযোগে বাঁধনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সালমানরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে সালমানরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে বাঁধনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত ১১টায় মৃত্যু হয় তার।

বাঁধনের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় থাকতেন। রাহির মাকে বাঁধন 'মা' বলে সম্বোধন করতেন। হত্যার ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। হত্যায় জড়িত কিশোর মো. রনি, মো. রিয়াদ, মো. ইয়াসিন ও মো. জাহিদকে গত শনিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে রনি ও রিয়াদ গত রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তেজগাঁও থানার ওসি অপূর্ব হাসান সমকালকে বলেন, কিশোর গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার হামলার ঘটনা ঘটে। বাঁধন ঠেকাতে গিয়ে খুন হয়েছেন। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত কয়েকজন পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন