স্কলাস্টিকা স্কুলের কর্মকর্তা ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার মামলা নেয়নি শাহবাগ থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার তিনি আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে জামাতা ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান ওরফে রুম্মানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে তাকে আড়াই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে শেষ পর্যন্ত মামলা নেওয়া হয়নি।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ মো. কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, এ ঘটনায় আগেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। সেটির তদন্ত চলছে। এ কারণে একই ঘটনায় আরেকটি মামলা নেওয়া হয়নি। তবে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগের মামলার সঙ্গে সেই অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের পরীবাগ এলাকায় দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে ইভানার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজন ও পুলিশের ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি ভবন থেকে লাফ দেন।

সংশ্নিষ্টরা জানান, ইভানার মৃত্যুর ৯ দিন পর গতকাল বিকেলে তার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে পাঁচ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এতে তিনি মেয়ের মৃত্যুর জন্য জামাতার পাশাপাশি তার কথিত প্রেমিকা (তিনিও ব্যারিস্টার) ও ইমপালস হাসপাতালের এক চিকিৎসককে দায়ী করেন। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ নিলেও যাচাই-বাছাইয়ের নামে সময়ক্ষেপণ করে পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মামলা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অভিযোগপত্রে আমান উল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ইভানার মৃত্যুর পর তার লেখা ২০১৬ সালের ৩ মের একটি ই-মেইল সম্পর্কে অবগত হই। সেখান থেকে জানতে পারি, বিয়ের পর থেকেই ইভানার ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়ে আসছিলেন তার স্বামী। এমনকি ইভানা চাকরি না ছাড়লে ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। রুম্মান নিয়মিত তাকে (ইভানা) একজন পরিচিত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেন। ওই চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে কোনো রোগের নাম বা বর্ণনা না লিখে এমন কিছু ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন যা মানসিক রোগের জন্য প্রযোজ্য। অথচ প্রেসক্রিপশন থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ নন। তার দেওয়া একটি ট্যাবলেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা ও ডিপ্রেশন বাড়ে। ওষুধগুলো দেওয়ার আগে তিনি কোনো ডায়াগনোসিস করেননি। উপরন্তু দুই মাসের ডোজ দিয়েছেন, যা কখনই উচিত নয়। এ ছাড়া ঘটনার আগে থেকেই ইভানাকে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন তার স্বামী, যাতে তার পরকীয়া চালিয়ে যেতে সুবিধা হয়।

ইভানার লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা সমকালকে জানিয়েছিলেন, কিছুদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না তার মেয়ের। সর্বশেষ তিনি বলেছিলেন, স্বামীর সঙ্গে তার কলহ হচ্ছে। কারণ তার স্বামী আরেক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। বিষয়টি তিনি তার শ্বশুর-শাশুড়িকেও বলেছেন। এ বিষয়ে মেয়ের শ্বশুরের সঙ্গেও কথা বলেন আমান।

পরীবাগের সাকুরা গলির ২/ক/১৪ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন ৩২ বছর বয়সী ইভানা। আরমান (৮) ও আয়মান (৬) নামে দুই সন্তান রয়েছে তার।

মন্তব্য করুন