সড়ক দুর্ঘটনায় মালেকার স্বামী মারা গেছেন অন্তত ১৪ বছর হলো। এক পর্যায়ে তিনি নিজের জীবন নিয়ে পড়েন অথৈ সাগরে। বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তির পথ। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল প্লাস্টিক বস্তার ত্রিপল টানানো ঘর। বিধবার অসহায়ত্ব দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক উদ্যোগে স্বপ্নের ঘর পেলেন তিনি। গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে মালেকাকে।

পঁয়ষট্টি বছর বয়সী বিধবা মালেকা বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা গ্রামে। ওই গ্রামের প্রয়াত হযরত আলীর স্ত্রী তিনি। অন্তত ১৪ বছর আগে দিনমজুর হযরত সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। স্বামী হারিয়ে মালেকা ভিক্ষাবৃত্তি করে নিজের জীবন চালাচ্ছেন। তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছিল বাড়ির পাশেই। কিন্তু মাদকাসক্ত স্বামীর সংসারে তিন সন্তান নিয়ে টিকতে পারেননি তার মেয়ে। ফলে নিজের জীবন টেনে নেওয়ার পাশাপাশি মেয়ে ও তার সন্তানদেরও টানতে হতো তাকে।

ভিক্ষার টাকা জমিয়ে ঘরে টিনের চাল দেবেন ভেবেছিলেন; কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। স্বামীর আড়াই শতক ভিটায় থাকা পুরোনো ঘর ভেঙে যাওয়ায় প্লাস্টিক চটের বস্তায় বানানো ত্রিপল দিয়ে ছাপরাঘর করে তাতে জীবনযাপন করছিলেন। মালেকার ভাগ্যে জুটছিল না কোনো সরকারি সহায়তাও।

মালেকা তার নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করেন তাকওয়া অসহায় সেবা সংস্থার পরিচালক তপু রায়হানের কাছে। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন তপু। বিধবা মালেকার জন্য একটি ঘর বানানোর আবেদন নাড়া দেয় অনেককে। মালেকাকে স্বপ্নের ঘর উপহার দিতে এগিয়ে আসেন অনেকেই।

স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুই বান্ডিল টিন এবং থানার ওসিসহ অনেকে অর্থ সহায়তা দেন। কেউ দেন ইট, কাঠ, সিমেন্ট। ১৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের ঘরটি নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে অন্তত ৫০ হাজার টাকা। চার দিন আগে কাজ শুরু করে শুক্রবার সকালে সমাপ্ত হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দিচ্ছেন একটি টিউবওয়েল। পরে গতকাল ইউএনও সীতেষ চন্দ্র সরকার বিধবাকে ভিটিপাকা নতুন টিনের ঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিয়ে আসেন।

নতুন টিনের ঘর পেয়ে আপ্লুত বিধবা মালেকা বলেন, আল্লার কাছে কত কান্নাকাটি করছি একটি নয়া ঘরের লাইগ্যা। কত বৃষ্টিতে ভিজেছি তার ঠিক নাই। আল্লাহ আমার কান্দন শুনেছে।

তাকওয়া অসহায় সেবা সংস্থার পরিচালক তপু রায়হান বলেন, বর্ষায় মালেকার কষ্ট দেখে তাকে ঘর বানিয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। বিভিন্ন সংগঠন, প্রশাসন ও অন্যদের সহায়তায় বিধবা মালেকাকে স্বপ্নের ঘর করে দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও সীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, বিধবা মালেকা এখন নতুন ঘর হয়েছে। ওই নারী বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। আরও কোনো সরকারি সহায়তা তাকে দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়টি তারা দেখবেন।

মন্তব্য করুন