স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক নেতাই দলের সিদ্ধান্ত মানছেন না। আগামী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। বহিস্কারের সিদ্ধান্ত থাকার পরও কেউ কেউ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আবার নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত থাকার পরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ।

জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদের কয়েকটি আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী মোক্তার হোসেন গতকাল রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। তিনি নির্বাচনে লড়ছেন। এই আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভা নির্বাচনে লড়ছেন চারজন। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন দলের পৌরসভা শাখার সভাপতি ইউনুস আলী মণ্ডল। এ ছাড়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র আবদুস সাত্তার মিলন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও পৌরসভা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুল মান্নান সরকার এই নির্বাচনে লড়ছেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম আকন্দের বিরুদ্ধে লড়ছেন বর্তমান মেয়র আক্তারুজ্জামান খোকন। তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা। এই নির্বাচনে বিএনপির উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। সেই সঙ্গে নির্বাচনে লড়ছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আতাহার আলী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মোখলেসুর রহমানের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীউল হক লিটন। এই পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দলের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ূর রহমানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। পৌরসভা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মইনুল হাসান কাজল এই পৌরসভায় প্রার্থী হয়েছেন।

নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তানজিরুল হক রনি। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মুজাহিদ হোসেন তুষার। পলাশ উপজেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি ইকরাম হোসেনও এই পৌরসভায় লড়ছেন।

ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ জাকের হায়দার। অবশ্য তিনি দলীয় মনোনয়ন চাননি। এখানে ছাগলনাইয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মন্টু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া একক প্রার্থী থাকায় মেয়র পদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার এমজি হাক্কানী। কোনো প্রার্থী না থাকায় খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে রফিকুল আলম কামালও জয়ের পথে রয়েছেন। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের অধ্যাপক নারগিস বেগম।

মন্তব্য করুন