'আমি চেয়ারম্যান বলছি, যুবলীগের চেয়ারম্যান। শোনেন, আমি একজনকে চিকিৎসা করাবো, একটু হেল্প করবেন। আপনি ২৫ দিবেন, আমি নম্বর পাঠাচ্ছি।' গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটনের নম্বরে ফোন দিয়ে এভাবেই ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। নেত্রকোনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের কাছ থেকে কর্মসূচি পালনের জন্য নেওয়া হয় টাকা।

সংগঠনের 'চেয়ারম্যানের কাছ থেকে' এমন ফোন পেয়ে বেশ উৎফুল্ল হন জেলার নেতারা। শেষ পর্যন্ত জানা গেল, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস

পরশ কাউকে টাকার জন্য ফোন দেননি। এভাবে কাউকে তিনি ফোন দেনও না।

ফিরোজ খন্দকার নামের এক প্রতারক যুবলীগের চেয়ারম্যানের নাম আর ফোন নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের নেতাদের কাছ থেকে এভাবে টাকা

হাতিয়ে নিয়েছে।

গত সোমবার রাতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সদস্যরা ওই প্রতারককে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ইন্টারনেট রেফারেল টিমের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ সমকালকে বলেন, ওই প্রতারক যুবলীগের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটির স্পোফিং করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। ওই ঘটনায় বনানী থানায় মামলার পর তদন্ত করে ফিরোজ খন্দকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিটিটিসির এই কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, প্রতারক ফিরোজ যুবলীগের চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার আরও মামলা রয়েছে।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি যুবলীগের চেয়ারম্যানের নাম বলে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ফোন দেওয়া হচ্ছিল। ফোনে কাউকে কাউকে 'ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে' বলে ভয় দেখানো হয়। কারও কাছে দরিদ্রের চিকিৎসার জন্য, আবার কারও কাছে সংগঠনের কর্মসূচি পালনের জন্য টাকা চাওয়া হতো। এসব বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত

শুরু হয়।

এতে দেখা যায়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এসব টাকা নিয়ে প্রতারক ফিরোজ বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তা উত্তোলন করেছে। বুথের সিসিটিভির ফুটেজের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়।

সূত্র জানায়, শেখ ফজলে শামস পরশের পরিচয় দিয়ে এবং তার মোবাইল নম্বর স্পোফিং করে ওই প্রতারক গাইবান্ধা জেলা যুবলীগের সভাপতি ছাড়াও নেত্রকোনা যুবলীগের আহ্বায়ক, সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের এক নেতা, পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়কসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা দাবি করে।

গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি লোটন সমকালকে বলেন, সংগঠনের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি উৎফুল্ল হন। একজন লোককে চিকিৎসার জন্য টাকা দিতে হবে জেনে তাও তিনি দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপরই তিনি গাইবান্ধায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মন্তব্য করুন