সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বানে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে গত বুধবার পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিময় পুণ্যদিনে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জশনে জুলুসের শোভাযাত্রা, কোরআনখানি, ওয়াজ মাহফিল, আলোচনা সভা, সেমিনার, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালি ভোজ। কালেমা তাইয়েবা খচিত পতাকার পাশাপাশি জাতীয় পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন হাজারো মানুষ। এদিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ বয়ান ও দোয়া হয়।

রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড় থেকে জশনে জুলুসের শোভাযাত্রা করে আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারিয়া। তাদের আয়োজনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন মাইজভান্ডারী দরবার শরিফের সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী। শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেছেন, ইসলাম ধর্মে উগ্রবাদের স্থান নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে। মন্দির, বাড়িঘরে হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি হবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস করে কেউ পার পাবে না। রাসুলের (সা.) আদর্শে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে সবাইকে।

নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির আয়োজনে মিলাদ মাহফিল হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সাম্প্রদায়িকতার নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা অংশ নেন। আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের আয়োজনেও জশনে জুলুস হয় মোহাম্মদপুরে।

চট্টগ্রামে জশনে জুলুস :চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জশনে জুলুস (শোভাযাত্রা) শুরু হয়। শোভাযাত্রায় লাখো মানুষ অংশ নেন। 'নারায়ে তকবির-আল্লাহু আকবার, নারায়ে রিসালাত-ইয়া রাসুলাল্লাহ' স্লোগানে মুখর হয় বন্দরনগরী।

মন্তব্য করুন