গণিত মেধার বিকাশ ঘটায়। ফটোগ্রাফি মনন গঠনে সহায়তা করে। শিশু-কিশোরদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ জরুরি। শিক্ষা গ্রহণে শিক্ষার্থীরা যেন ভয় না পায়। তারা পড়বে, খেলবে, শিখবে। আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করবে। চারপাশের পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি মমতা নিয়ে বেড়ে উঠবে।

গতকাল শনিবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে গণিত ও ফটোগ্রাফি উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. সামসাদ মর্তুজা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।

ড. সামসাদ মর্তুজা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার উৎকর্ষ সাধনে গণিতের বড় ভূমিকা রয়েছে। নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমি গণিত ভয় পেতাম, তাই আর্টস নিয়ে পড়েছি। কিন্তু এখন শিশু-কিশোররা আনন্দের সঙ্গে গণিত শিখছে।

মুস্তাফিজ শফি তার বক্তৃতায় বলেন, রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এটা ভালো লক্ষণ যে, গণিতকে উপলক্ষ করেও এখন শিক্ষার্থীরা উৎসব করছে। দেশ ও জাতি গঠনে তরুণ সমাজের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে '৫২, '৬৯, '৭১- সব আন্দোলনেই কিশোর-যুবকরা অংশ নিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি ভেদাভেদহীন বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও সবার সমান অধিকারের দেশ গড়তে অতীতের ধারায় বর্তমানেও শিশু-কিশোরদের এগিয়ে আসতে হবে।

শুধু গণিত বুঝলে হবে না, একই সঙ্গে জীবনের অঙ্ক বুঝতে হবে।

অধ্যক্ষ কাজী শামীম ফরহাদ ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি বেশি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

গত শুক্রবার শুরু হওয়া দু'দিনব্যাপী ফটোগ্রাফি ফেস্ট ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়। রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ও ইউল্যাবের ফটোগ্রাফি ক্লাব যৌথভাবে ফটোগ্রাফি ফেস্টের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মোবাইল ও ডিএসএলআর- এ দুই ক্যাটাগরিতে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ক্যাটাগরিতে আবার জুনিয়র, সিনিয়র ও বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি ভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৮ বিজয়ীকে ফটোগ্রাফিতে ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়।

গতকাল দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত গণিত উৎসবের আয়োজক রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের গণিত ক্লাব। এতে শুধু রেসিডেনসিয়ালের শিক্ষার্থীরাই অংশ নেন। গণিত অলিম্পিয়াড, গণিতের বিশ্ব, দ্রুত গণিত সমাধান, সুডোকু, দ্রুত কিউবি মেলানো এবং দলগত গণিত সমাধানবিষয়ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক, জুনিয়র, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এর মধ্যে দ্রুত কিউব সমাধান প্রতিযোগিতা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। গণিত উৎসবে মোট ৫১টি পুরস্কার দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন