ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ফরিদপুরের সালথায় যুবক নিহত হয়েছেন। সিলেটে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। সালথায় ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে মারিজ সিকদার নামে এক যুবক নিহত হন। আহত হন উভয় প্রার্থীর অন্তত ৩০ জন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ৫০টি বসতঘর। শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে গত ১৭ অক্টোবর নৌকার প্রার্থী আব্দুর রব মোল্যা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন আওয়ামী লীগ সমর্থক গ্রাম্য মাতবর মো. রফিক মোল্যা ও নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুর।

এক মাস আগে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে রফিকের কাছ থেকে আলাদা হয়ে টুকু ঠাকুর নৌকার প্রার্থী রব মোল্যা ও তার সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়ার দলে যোগ দেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রব মোল্যার সমর্থক আলমগীর মিয়া ও টুকু ঠাকুরের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকের বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গতকাল সকাল থেকে খারদিয়া এলাকায় উভয় প্রার্থীর হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে দুপুর ২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়, চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এতে মারিজ সিকদার, নাসির মোল্যা, রহিম মণ্ডল, রশিদ শেখ, সাকির মোল্যা, টেপু শেখসহ উভয় প্রার্থীর অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিকের সমর্থক মারিজ সিকদার মারা যান। তিনি খারদিয়া গ্রামের সওরাফ সিকদারের ছেলে।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের অন্তত ৫০টি বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করার খবর পাওয়া যায়।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমিনুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শর্টগানের প্রচুর গুলি ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে দা দিয়ে কুপিয়ে ও সুলফির ঘাই মেরে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলাউদ্দিন আলাল (৪৫) আলীনগরের মৃত আবদুস সত্তারের ছেলে। তিনি পার্শ্ববর্তী লেংকান্দি গ্রামে বাড়ি করে বাস করছিলেন। জালালাবাদ ইউপি নির্বাচনে দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে বিরোধ নিয়ে আলালকে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আলাল মেম্বার প্রার্থী গোলাম রব্বানী বতইয়ের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে ছিলেন। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ প্রতিপক্ষের মেম্বার প্রার্থী আবদুল হামিদসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের মেম্বার প্রার্থী আবদুল হামিদের ভাই আলী আহমদের সঙ্গে আলালের হাতাহাতি হয়। ওই সময় তার ভাই জয়নাল ইটের আঘাতে আহত হন। বিষয়টি আপসের উদ্যোগ নেন গ্রামের মুরব্বিরা। ১০ হাজার টাকা করে জামানত রেখে বিচার শুরুর কথা ছিল। এ অবস্থায় গতকাল দুপুরে মেম্বার প্রার্থী গোলাম রব্বানী বতইয়ের বাড়িতে খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আলাল। তার সঙ্গে কয়েকজন ছিলেন। আবদুল হামিদের বাড়ির উঠান দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা করে একদল লোক। অভিযোগ উঠেছে, মেম্বার প্রার্থী আবদুল হামিদ, তার ভাই আলী আহমদ, আত্মীয় কবির, তছিরসহ কয়েকজন প্রথমে সুলফি দিয়ে দূর থেকে আলালকে ঘাই মারে। পরে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। একাধিক আঘাতের কারণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আলাল। ওই সময় তার ভাইসহ আরও কয়েকজন আহত হন। 

মন্তব্য করুন