আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল নেতারা বলেছেন, বিএনপি যতদিন ধর্মান্ধদের মাথার ওপরে ছাতা ধরে রাখবে, ততদিন উগ্রবাদীদের আক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাবে। ধর্মান্ধদের চক্রান্তের সঙ্গে বিএনপির একটা রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস :রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ১৪ দল নেতারা এসব কথা বলেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দুদের মন্দির ও ঘরবাড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। এর পেছনে কোনো অপশক্তি জড়িত রয়েছে। আর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে যে হামলা হলো, সেই ধর্ম অবমাননাও কোনো হিন্দু বা মুসলিম করেননি। সাম্প্রদায়িক হামলার অজুহাত তৈরি করতে এটিও কেউ সুপরিকল্পিতভাবে করিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সংঘবদ্ধচক্র মানুষকে বিভাজন করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তাদের সেই নীল-নকশা কখনোই সফল হতে দেবে না।

সভাপতির বক্তব্যে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আজকের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, উগ্রবাদীদের আক্রমণ বাংলাদেশে আর হবে না, এটা নিশ্চিত করা। এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নকে নিষ্পত্তি করতে ধর্মান্ধ শত্রুদের চিহ্নিত করতে হবে। এই ধর্মান্ধ চক্রের একটা সংযোগ আছে। এদের সম্পৃক্ততা আছে রাজাকার, জামায়াতে ইসলামী ও পাকিস্তানপন্থার সঙ্গে। সর্বশেষ এই ধর্মান্ধ চক্রান্তের একটা রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে বিএনপির সঙ্গে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। কারণ, দেশের এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে হিন্দুরাই সংখ্যাগুরু। যেখানে হিন্দুদের ভোটেই গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান। কাজেই নিজেদের সংখ্যালঘু না ভেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে থাকবেন, এক থাকবেন। তাহলেই দেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর বিষয়টা থাকবে না।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর সন্ত্রাস-সহিংসতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে।

গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। আরও বক্তব্য দেন গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কাজল দেবনাথ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন