দেশে প্রায় ২৫ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা আছে। উপকূলীয় ১৮ জেলার ৯৩টি উপজেলার প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি ও মৎস্যসম্পদ। সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অতি তাপমাত্রায় নদনদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনারের এসব তথ্য জানানো হয়। এতে সহায়তা করে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), মৃত্তিকাবিজ্ঞান সমিতি এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্রমহ্রাসমান চাষযোগ্য জমির বিপরীতে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠী ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই কিংবা ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় সরকার উপকূলের লবণাক্ত জমি, হাওর ও পাহাড়ি এলাকায় ফসল উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষিবিজ্ঞানীরা অনেক ফসলের লবণসহিষুষ্ণ উন্নত জাত উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন। এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি চাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, লবণাক্ততাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা থেকে উত্তরণে মানুষকে সচেতন করার বিকল্প নেই। মাটির ক্ষয় রোধে বিনিয়োগ ও গবেষণা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট প্রকাশিত 'সয়েল অ্যাটলাস অব বাংলাদেশ' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং মৃত্তিকাবিষয়ক বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল। পরে বিজয়ীদের হাতে সয়েল কেয়ার অ্যাওয়ার্ড, সয়েল অলিম্পিয়াড এবং মৃত্তিকা দিবসের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন