সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে পরিবারের নারীরাও যাতে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন, পুরুষদের প্রতি সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুরুষদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা নিজেরাও ব্যবসা করেন। আর স্ত্রীর নামে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে তাকেও একটু কাজ করার সুযোগ করে দেন। এতে মেয়েরাও শিল্পায়ন করতে পারবে। তাতে উদ্যোক্তাও সৃষ্টি হবে। সেই সুযোগটা অন্তত আপনারা দেবেন। সেখানে বাধা দেবেন না।'

গতকাল রোববার জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।

প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, পাস করেই চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরা উদ্যোক্তা হতে হবে এবং অন্যকে চাকরি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে নারীরা এক সময় ব্যবসা-বাণিজ্যে একটু পিছিয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে উদ্যোক্তা তেমন ছিলেন না। এখন নারী উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসছেন। নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার প্রদানসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, সামনের দিকে আরও বেশি নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে।

এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার, সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া, উৎপাদিত পণ্যের প্রসার, প্রচার, বাজারজাতকরণসহ নানামুখী কার্যক্রম সরকার দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অঞ্চলভিত্তিক কৃষিপণ্যসহ অন্য যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন হয়, সেগুলো কাজে লাগাতে ওইসব অঞ্চলে শিল্প গড়ে তুলতে হবে। যেন কাঁচা পণ্যটা আমরা নিজেদের দেশ থেকে আহরণ করতে পারি। সেই দিকটায় বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। তাতে আমাদের দেশ লাভবান হবে, আমাদের কৃষি লাভবান হবে। এতে শিল্পায়ন এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে।

সরকার কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে কোন পণ্যের কেমন চাহিদা আছে, সে অনুযায়ী খাদ্যপণ্য রপ্তানি ও উৎপাদনের পরিকল্পনা নিতে হবে। কোন ধরনের কাঁচামাল এখানে পাওয়া যাবে বা কোন ধরনের শিল্প আমরা সহজে গড়ে তুলতে পারি, সেগুলো বিবেচনায় নিয়েও আমরা শিল্প গড়ে তুলতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু উৎপাদন নয়, পণ্যগুলো যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে সারাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ১৭৭টি ক্লাস্টার চিহ্নিত করেছে। এসব ক্লাস্টারসহ সারাদেশে রয়েছে ৭৮ লাখ এসএমই শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নতুন করে একজন মানুষের কাজের ব্যবস্থা হলে অন্তত ৭৮ লাখ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এসএমই খাতের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে আওয়ামী লীগ সরকার সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যত্রতত্র শিল্প করা যাবে না। কারণ, আমরা চাই আমাদের কৃষিজমি রক্ষা করতে। খাদ্য চাহিদা কখনও কমবে না বরং দিনের পর দিন বাড়বে। মহামারির মধ্যে খাদ্য চাহিদা বেড়েছে এবং অনেক উন্নত দেশ এখন খাদ্য সংকটে ভুগছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের আল্লাহর রহমতে সেই সমস্যাটা নেই।' স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবর্ষে বাংলাদেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নেও সরকার জোর দিচ্ছে।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমইএফ) চেয়ারপারসন মাসুদুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন