শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। জাতিকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে সেই মেরুদণ্ড ঠিক রাখে শিক্ষক সমাজ। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সরকারি মাধ্যমিক হাই স্কুল দীর্ঘদিন ধরে প্রকট শিক্ষক সংকটে ভুগছে। এই সংকট নিরসনে ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এবং একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে অদ্যাবধি ২ বছর অতিক্রম হয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রায় ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পথে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় সুপারিশপ্রাপ্ত ২ হাজার ১৫৫ জন শিক্ষক চরম হতাশায় ভুগছেন। একদিকে কভিড-১৯ পরিস্থিতির ভয়াল থাবা, অন্যদিকে বেকারত্বের অভিশাপে তাদের মনোবল, উদ্যম ম্রিয়মাণ হওয়ার পথে। সুস্বপ্টম্ন বর্তমানে তাদের কাছে দুঃস্বপ্টেম্ন পরিণত হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহার আগমন ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে; কিন্তু এ বিশাল সংখ্যক শিক্ষক সমাজ তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীরাও তাদের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্টেম্নর সোনার বাংলা আধুনিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ করতে ঈদুল আজহার আগেই ২ হাজার ১৫৫ জন নবীন শিক্ষকের দ্রুত পদায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিবের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নবীন শিক্ষক সমাজ জাতির কর্ণধার হিসেবে অভূতপূর্ব অবদান রাখবে। কভিড-১৯ পরিস্থিতির জন্য শিক্ষা খাত যে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, সুপারিশপ্রাপ্ত ২ হাজার ১৫৫ জন তরুণ মেধাবী নবীন শিক্ষক শিক্ষার সেই ক্ষতি পূরণে সহায়কের ভূমিকা পালনে ব্যাপক অবদান রাখবে। সুতরাং জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।

সরকারি হাই স্কুলে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক

মন্তব্য করুন