সেদিন অফিসে ঢুকেই জুবায়ের সাহেবের উত্তেজিত কণ্ঠ শুনি- "কত বড় স্পর্ধা, আমাকে বলে 'জুবায়ের সাহেব', আমি ওর ...!" বয়সে ছোট এক কর্মকর্তা 'সাহেব' সম্বোধন করায় ভয়ানক ক্ষেপেছেন তিনি। তিনি এবং ওই কর্মকর্তা একই পদের। জুবায়ের সাহেবের বক্তব্য, একই পদের হলেও বয়সে তিনি অনেক বড়- তাই 'সাহেব' সম্বোধন অসম্মানজনক তার জন্য।

কনিষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য- "বয়সে ছোট আমি, কিন্তু দুজন তো একই পদের। এ ক্ষেত্রে 'সাহেব' সম্বোধনে দোষ কোথায়।"

একই পদের বয়োজ্যেষ্ঠজন বয়স বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন- কনিষ্ঠজন নিচ্ছেন না, শুধু পদটাই দেখছেন। জ্যেষ্ঠজন হয়তো বয়সকে নিছক সংখ্যা গণ্য করছেন না। কারণ, বয়স কেবল বয়স নয়- এর সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, দক্ষতা ইত্যাদি বিষয়গুলোও জড়িত। বয়সকে অগ্রাহ্য করলে প্রকারান্তরে ওই বিষয়গুলোও অগ্রাহ্য করা হয়; যা কারও জন্য সম্মানজনক নয়। সেহেতু সমপদের বয়োজ্যেষ্ঠরা চান, বয়সটাকে আমলে নিক কনিষ্ঠরা। অগ্রজ বিবেচনায় তাদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক অনুজরা। এতে সম্মানিত বোধ করেন তারা।

'সাহেব' সচরাচর অধস্তনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সমপদের বয়োজ্যেষ্ঠের বেলায় শোভন বা সম্মানজনক নয় শব্দটি। সে ক্ষেত্রে বরং 'ভাই' শব্দটি মানানসই ও সম্মানজনক। শুধু 'ভাই' কিংবা ওমুক 'ভাই'। 'ভাই' শব্দটির মধ্যে শ্রদ্ধার ভাব জড়ানো আছে। তবে সমপদের সমবয়স্ক এবং কনিষ্ঠদের ক্ষেত্রে 'সাহেব' শব্দটি সম্মানজনক।

সম্মানের প্রতি নির্লোভ মানুষ বিরলই বটে। নিজের সম্মানের ভাবনাটি সব সময়ই মাথায় থাকে মানুষের। এ ক্ষেত্রে নিরাসক্ত হওয়া কষ্টসাধ্য বিষয়। সম্মান পেলে খুশি হন না এমন মানুষ পাওয়া দুস্কর।

কর্মক্ষেত্রে শুদ্ধাচার খেলাফের নানা নজির রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সিনিয়র এমনকি সমমর্যাদাসম্পন্ন কেউ চলে এলে নিজে দাঁড়িয়ে তাকে বসতে দেওয়া, অতিরিক্ত চেয়ার না থাকলে প্রয়োজনে দাঁড়িয়েই থাকা শুদ্ধাচার। কিন্তু বাস্তবে তা করেন কয়জন! অন্যকে সম্মান দিতে প্রায়ই গড়িমসি করি আমরা। উদ্ভট হিসাব-নিকাশও মাথায় আসে কখনও কখনও।

শুদ্ধাচার চর্চার অভাবে মানসিক অশান্তি বা অস্বস্তিই প্রাপ্তি ঘটে আমাদের। আর শুদ্ধাচার চর্চায় আসতে পারে শান্তি আর স্বস্তি। আমরা যখন অন্তরে একটা স্বস্তি ও তৃপ্তি বোধ করি, তখন আমাদের কাজকর্মের মানও উন্নত হয়। শুদ্ধাচার হলো সুন্দর, শুভ, মানবিক, ন্যায় ব্যবহার ও আচরণ।

ঢাকা

বিষয় : কর্মক্ষেত্রে শুদ্ধাচার শাহীন নূর

মন্তব্য করুন