করোনা প্রকোপের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে হুমকির মুখে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন। করোনাকালে দেশের সবকিছু প্রায় স্বাভাবিকভাবে চললেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই যেন কড়া বিধিনিষেধ। সংশ্নিষ্ট মহল থেকে বলা হচ্ছে, অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু বাস্তবে কতজন শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের আওতায় আসতে পারছে, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাই দুরূহ, সেখানে ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোন তাদের কাছে অনেকটাই আলাদিনের চেরাগের মতো।

তাছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা যে খুব বেশি উপকৃত হচ্ছে, তাও স্পষ্ট নয়। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবন। এমনকি শিক্ষার্থীরা অনলআইনভিত্তিক বিভিন্ন গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে ও জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে। আমরা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, অনেক কিশোর শিক্ষার্থী ভয়াবহ মাদকের দিকে পা বাড়াচ্ছে। আমরা দেখেছি লকডাউনের মধ্যেও সবকিছু সুন্দর-স্বাভাবিকভাবে চলছে। গণপরিবহনে করোনার বিস্তারের বেশি সম্ভাবনা থাকার পরও চলছে গণপরিবহন। কেননা গণপরিহনে নানাবিধ মানুষ যাতায়াত করে তার ওপরে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই।

দেশে এমনিতেই বেকারত্বের হার অনেক বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা শিক্ষার্থীর কারও কারও বয়স শেষের দিকে! চাকরিতে প্রবেশের বয়স নির্ধারিত হওয়ার ফলে তাদের চাকরিতে প্রবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে; যা বেকারত্বের হার আরও বাড়িয়ে দেবে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খোলার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সব যদি প্রায় স্বাভাবিক চলে তাহলে প্রশ্ন জাগে, করোনাভাইরাস কি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে? বিলম্ব না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক।

সমাজকর্মী
takdirhossain786@gmail.com

বিষয় : তাকদির হোসাইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মন্তব্য করুন