'একটি গাছের অবদানে, স্বস্তি জাগুক হাজার প্রাণে'- এখনই সময় এমন স্লোগান সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। বৃক্ষ মানবজাতির পরম বন্ধু। আমাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামে গাছপালার ভূমিকা অপরিসীম। অক্সিজেন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনে রয়েছে বৃক্ষের সম্পৃক্ততা। সমগ্র বিশ্বে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। বৃক্ষ নিধন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদনদী ভরাটসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটায় অস্তিত্বের সংকটে মানবজাতি। এ থেকে বাঁচতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প কোনো পথ আমাদের জন্য খোলা নেই। এ জন্য এখনই শুরু করতে হবে নিজ নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানো।

বিশেষ করে বর্তমানে দেখা মিলছে বাড়ির ছাদে টবে গাছের চারা রোপণের দৃশ্য। পেয়ারা, কুল, জাম্বুরা, কমলালেবু, ডালিমসহ লাগানো হচ্ছে ঔষধি গুণসম্পন্ন মেহেদী, থানকুনি, অ্যলোভেরা জাতীয় গাছ। শহরে বনায়নের প্রয়োজনীয় জায়গার সংকট থাকায় তারা এটির ওপর ঝুঁকছে বেশি। অনেকে ছাদ ব্যবহার না করলেও বাসার ব্যালকনিতেও লাগাচ্ছে নানান প্রজাতির গাছ। এর ফলে নগরীর পরিবেশগত বর্তমান সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব, পাশাপাশি আসবে বাড়তি খাদ্যপুষ্টি ও অর্থ। বাংলাদেশ সরকারও এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এবং কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তর এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্র্রতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাসাবাড়িতে ছাদবাগান করলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হবে। আশা করি, এ ঘোষণা বৃক্ষপ্রেমীদের আরও বেশি উজ্জীবিত করবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ছাদযুক্ত পাকা বাড়িতে দেখা মিলছে এ পদ্ধতির। বাড়ির আঙিনার পাশাপাশি ছাদে টবে গাছ লাগানো শুরু হয়েছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ২.৬ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি রয়েছে। মোট ভূমির প্রায় ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বনাঞ্চল। কিন্তু আমরা জানি, পরিবেশ সংরক্ষণে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বনভূমি কম রয়েছে। ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বনভূমিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনসহ পার্বত্য এলাকায় নিজে বাঁচতে, দেশকে বাঁচাতে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। এ কথা আমাদের সময় থাকতেই বুঝতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতেই হবে। বৃক্ষরোপণ সামাজিক আন্দোলনে রূপ পাক। বৃক্ষই বন্ধু মানুষ ও পরিবেশের। পরিবেশ ও জীবনের প্রয়োজনেই সবাইকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা

বিষয় : বৃক্ষবান্ধব

মন্তব্য করুন