বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে যখন গড় আয়ু ছিল ৫৫ বছর, তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭, আর অবসরের বয়স ছিল ৫৭ বছর। ১৯৯১ সালে সেশনজটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ২৭-এর পরিবর্তে করা হলো ৩০ বছর। তখন গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। এরপর ২০১১ সালে এসে অবসরের বয়স বেড়ে হয় ৫৯, আর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হয় ৬০ বছর। অবসরের সময় দুই-তিন বছর বৃদ্ধি করার কারণে ওই সময় তেমন চাকরির বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ হয়নি। ১৯৯১ থেকে ২০২১ এই ৩০ বছরে গড় আয়ু ১৬ বছর বেড়ে ৭৩ বছর হয়েছে। কিন্তু চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়েনি। এ ক্ষেত্রে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

চিকিৎসকদের শিক্ষাজীবন বেশিদিনের হওয়ার কারণে তাদের আবেদনে বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে। কোটায় আওতাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্যও চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মান কোর্স তিন বছরের স্থলে চার বছর করা হলেও চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করা হয়নি।

আবার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক লেখাপড়ার সঙ্গে চাকরির প্রস্তুতিমূলক লেখাপড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে ইতিহাস বিভাগ থেকে পাস করে ব্যাংক কর্মকর্তা, আবার প্রকৌশলী হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হয়েছেন- এমন দৃষ্টান্ত আছে। চাকরির প্রস্তুতির জন্য যে লেখাপড়া করতে হয়, তার জন্য অবশ্যই দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। একাডেমিক পড়াশোনা চলাকালে এই সময় বের করা কঠিন। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের কারণে সনদ অর্জনে অনেকের বিলম্ব ঘটে। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

অন্যান্য দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে। শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ বছর। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর। আমাদের দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনসহ চাকরিপ্রত্যাশীরা আন্দোলন করে আসছেন।

আমরা চাই শুধু করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কথা না ভেবে বয়স বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি যেন বৈষম্যহীন ও সর্বজনীন হয়। বেকারত্ব হ্রাস করতে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, কর্মমুখী শিক্ষার পরিসর বাড়িয়ে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনা যেন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ড হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। তা না হলে সবাই চাকরিকেন্দ্রিক পড়ালেখায় গুরুত্ব বাড়াবে। এতে শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তা হলে আমরা বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারব।

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ

বিষয় : সরকারি চাকরি

মন্তব্য করুন