প্রযুক্তি আমাদের জীবনপ্রণালিকে কতটা সহজ করেছে, তা বিশ্নেষণের অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, ব্যবসা, চাকরিসহ সবকিছুই আমাদের হাতের নাগালে এসেছে প্রযুক্তির কল্যাণে। প্রযুক্তিকে বিবেচনায় রেখেই অঙ্কিত হচ্ছে কার্যপরিকল্পনা। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশ কতটুকু হয়েছে? প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আমরা কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছি, নাকি অন্য দেশের উদ্ভাবন শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সময়ে নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। ডেভেলপ করা হচ্ছে নিজেদের স্কিল। অনলাইনে বিভিন্ন সেমিনার, প্রোগ্রাম এবং আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে অনেকে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

তবে আউটসোর্সিংয়ের কাজ শেখার ক্ষেত্রে আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। তাদের অনেকেই নিজেদের ডুবিয়ে রেখেছে প্রযুক্তিরই আবিস্কার নানা বিধ্বংসী গেমিংয়ে। আমরা উন্নত দেশগুলোর মতো সহজ কোনো মাধ্যম তৈরি করতে পারিনি, যার মাধ্যমে তরুণরা গেমিংয়ের পরিবর্তে আয়ের পথে হাঁটতে পারে। অনেক তরুণ ফি দিয়ে আউটসোর্সিং শিখতে গিয়ে শিকার হয় প্রতারণার, যা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। সরকার এ বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবায়নে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। ফলে তরুণরা সেখান থেকে পুরোপুরি দক্ষতা অর্জন করতে  পারছে না। যার মূলে রয়েছে দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় তরুণদের সম্পৃক্ততা পূর্বশর্ত। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্কিল ডেভেলপ হয় এমন কাজে তরুণদের আগ্রহী করে তোলা দরকার। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আমাদের গবেষণাকর্ম বাড়াতে এ খাতে পর্যাপ্ত বাজেট রাখতে হবে। সুযোগ-সুবিধা পেলে আমাদের দেশেই উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

মন্তব্য করুন