দেশি প্রজাতির ছোট-বড় অনেক মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় নদীনালা, খালবিল, পুকুর-ডোবা এবং ফসলি ক্ষেতে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। তখন অনেক মানুষ মাছ ধরাকে তাদের পেশা হিসেবে নিয়েছিল। মাছের সংকটে তারা পেশা বদলে ফেলেছেন। বিলুপ্ত হওয়া মাছের মধ্যে রয়েছে- ঢেলা, পাবদা, দাঁড়কানা, কৈ, তিন কাঁটা আইড়, তেলটুপি, গাড্ডু টাকি, ভেদা, মাগুর, বড় শোল প্রভৃতি। ইদানীং পুঁটি, জাতটাকি, চিংড়ি, তিতপুঁটি, টেংরা, শিং, চান্দা, বাইম মাছও হাটবাজারে তেমন চোখে পড়ে না। মাঝেমধ্যে পাওয়া গেলেও দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

দেশি প্রজাতির মাছ সাধারণত যত্রতত্র ডিম ছেড়ে বংশবিস্তার করে। কিন্তু শুস্ক মৌসুমে পানি কমে এলে জলাশয়গুলো সেচে সব মাছ ধরে ফেলা হয়। এতে দেশি প্রজাতির মাছ আর বংশবিস্তার করতে পারে না। আবার আমাদের দেশে জনসংখ্যার চাপে জলাশয়ের সংখ্যাও কমে আসছে। জলাশয়গুলো ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে নানাবিধ স্থাপনা। ফলে মাছের আবাসস্থল কমে যাচ্ছে। বর্ষায় ফসলি জমিতে পানি জমলে মাছের বংশবিস্তার দেখা যায়। কিন্তু অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয় মাছ। দেশি প্রজাতির যে কোনো মাছ বাজারে খুব কম দেখা যায়, মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও বিক্রি হয় চড়া দামে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় চড়া দামেও দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাবে না।

দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমাদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে, মৎস্য নিধন বন্ধ করা, জলাশয় ভরাট না করা, জলাশয়গুলোতে সারাবছর পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা, দেশি প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করে জলাশয়ে অবমুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগও জরুরি। মনে রাখা দরকার, সুস্বাদু দেশি প্রজাতির মাছ আমাদের ঐতিহ্য। আমরা এই ঐতিহ্যকে বিলুপ্ত হতে দিতে পারি না।

তরুণ উদ্যোক্তা

মন্তব্য করুন