মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকসমাজ আজ বঞ্চনার শিকার। মাধ্যমিক পর্যায়ের এমপিওভুক্ত সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে বারবার রাস্তায় নামতে হচ্ছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখনও বাড়ি ভাড়া ভাতা ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, উৎসব ভাতা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে পাচ্ছেন। ২০১৯ সালের ১৫ ও ২০ জুন পৃথক দুটি গেজেটের মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যমান চাঁদার হার ছয় শতাংশের পরিবর্তে মূল বেতনের ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। চাঁদার হার বাড়ালেও শিক্ষকদের অবসর সুবিধা রয়েছে আগের মতোই। ফলে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হলেও শিক্ষকরা পাচ্ছেন মাত্র ১ শতাংশ।

অথচ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা পাঁচ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, ১০০ শতাংশ উৎসব ভাতা, ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা, যাতায়াত ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ, আবাসন সুবিধা, পেনশনসহ সরকারের দেওয়া সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের বদলিরও কোনো সুযোগ নেই। প্রারম্ভিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকায় একজন শিক্ষকের পরিবার চালানো তো দূরের কথা, বাসা ভাড়া মেটানোই প্রায় অসম্ভব। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই সিলেবাস ও একই যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকরা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। সঙ্গত কারণে কেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এই বৈষম্যের শিকার হবেন? একটি স্বাধীন দেশে এই বৈষম্য জিইয়ে থাকতে পারে না।

আমাদের দেশে মাত্র ৩৩৫টি বিদ্যালয় সরকারি, যেগুলোর পুরো দায়দায়িত্ব সরকারের। বাকি প্রায় বিশ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেসরকারি। গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবহেলার শিকার। এগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়, নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষক নেই, মানসম্মত শিক্ষকরা সেখানে যেতে চান না। ফলে গ্রামের লাখ লাখ শিক্ষার্থী উপযুক্ত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, মাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। মেধাবীরা এ পেশায় আসতে আগ্রহী হবে। একটি বৈষম্যহীন শিক্ষা ও সমাজ গড়ে উঠবে। শিক্ষা জাতীয়করণ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ যদি ব্যয়ও হয়, সেটা তো এক ধরনের বিনিয়োগ। শিক্ষায় যে জাতি বেশি বিনিয়োগ করবে, সে জাতি তত উন্নত হবে। শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ এবং মান ফিরিয়ে আনার জন্য বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয়করণ করা অবশ্যই দরকার।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস)

মন্তব্য করুন