নতুন বছরের শুরুতেই করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে আবারও দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এর ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে আবারও গণপরিবহনে অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী বহন, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু নির্দেশনা জারি হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি থেকে ট্রেন ও গণপরিবহনে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, আসন সংখ্যা অর্ধেক করা হলেও আগের ভাড়াতেই সব যানবাহন চলবে। কিন্তু বিগত সময় লক্ষ্য করা গেছে, অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ, গণপরিবহন চলার কথা থাকলেও পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিটি আসনে যাত্রী তুলে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছে। এমনও দেখা গেছে, বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি আসন ছাড়াও তারা অতিরিক্ত যাত্রী তুলেছে। নীতিনির্ধারকরা নিয়মনীতির কথা বললেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাই আবারও এ পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

এদিকে কিছুদিন আগেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সব গণপরিবহন, লঞ্চ এবং ডিজেলচালিত অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা তাদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করে চলেছে। রাজধানীর মধ্যে চলমান সব গণপরিবহনে ভাড়ার তালিকা করে দেওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা খেয়াল-খুশিমতো ভাড়া আদায় করছে। এর ওপর সিট সংখ্যা অর্ধেক করায় যদি গাড়ি শ্রমিকরা নিজেদের মনগড়া আইনে আগের মতো ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে, তাহলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হবে ছাত্রছাত্রী এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের। সাধারণ মানুষ আবারও পড়বে সংকটে। এর স্থায়ী সমাধান আনতে হবে।

শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা

মন্তব্য করুন