সাকরাইন উৎসব মূলত পৌষসংক্রান্তি। এটি ঘুড়ি উৎসব নামেও পরিচিত। সংস্কৃত শব্দ 'সংক্রান্তি' ঢাকাইয়া অপভ্রংশে সাকরাইন রূপ নিয়েছে। পৌষ ও মাঘ মাসের সন্ধিক্ষণে পৌষ মাসের শেষ দিনটি ভারতবর্ষে সংক্রান্তি হিসেবে উদযাপিত হয়। তবে পুরান ঢাকায় পৌষসংক্রান্তি বা সাকরাইন সার্বজনীন ঢাকাইয়া উৎসবে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে দিনভর ঘুড়ি ওড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রংবেরঙের ফানুসে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গার আশপাশে শহরের আকাশ। অঞ্চলভেদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তা আবার বিশেষ অনুষ্ঠান।

বাংলা বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস পৌষের শেষ দিনে আয়োজিত হয় এ উৎসব। বাংলায় দিনটি পৌষসংক্রান্তি এবং ভারতীয় উপমহাদেশে মকরসংক্রান্তি নামে পরিচিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৪০ সালের এই দিনে মুঘল আমলে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব হয়। সেই থেকে এ দিনকে কেন্দ্র করে উৎসবের আয়োজন করা হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে। তবে উৎসবটি আমরা ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ জানলেও বর্তমানে উদযাপনের ধরনে বিভিন্ন পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ফানুস ওড়ানো, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা করা, আগুন মুখে নিয়ে খেলা করা, উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফোটানো ইত্যাদি। সাম্প্রতিক সময়ে আবেগপূর্ণ এসব কাজে উৎসব উদযাপনের পরিবর্তে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চলতি বছরে ইংরেজি বছর শুরু উপলক্ষে ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি না হলেও অনেকে আহত হয়েছেন এবং পুড়েছে আসবাবপত্র। এ ছাড়া বিভিন্ন তথ্যমতে আতশবাজি ফোটানোর ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানা হয় না। সাকরাইন উৎসবে প্রত্যাশা- কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন