বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদনে কড়াকড়ি

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

রাজবংশী রায়

বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বিষয়ে কড়াকড়ি শর্ত আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। শিগগিরই নতুন করে আর কোনো মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেলের জন্য বিদ্যমান নীতিমালাকে আইনে রূপান্তর করা হবে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে আগের নিয়ম বহাল থাকবে। অনুমোদন দেওয়া মেডিকেল কলেজগুলোর কার্যক্রম তদারকির জন্য ২২টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে মেডিকেলে ভর্তির সময়সীমা ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন করে চারটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বিগত মহাজোট সরকারের সময় অনুমোদন দেওয়া ১২টি মেডিকেল কলেজের বিষয়ে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সমকালকে বলেন, যথাযথ শর্ত পূরণ না হলে নতুন করে আর কোনো মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি বেসরকারি যেসব মেডিকেল কলেজ আছে, সেগুলো যথাযথভাবে কার্যক্রম
পরিচালনা করছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শর্ত পূরণ না করলে ওইসব মেডিকেল কলেজেরও অনুমোদন বাতিল করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চারটি নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য করা আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এসব মেডিকেল কলেজের মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বিক্রমপুর ভূঁইয়া মেডিকেল কলেজ। এই মেডিকেল কলেজের জন্য আবেদন করেছিলেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবি্লউ। ভঁূইয়া মেডিকেল কলেজ নিয়ে হাইকোর্টে হামলা চলমান থাকায় পরিদর্শন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় শরীয়তপুরের মনোয়ারা শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেরও অনুমোদন মেলেনি। একইভাবে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার মাদার তেরেসা মেডিকেল কলেজ এবং গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার ভাওয়াল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের সময় অনুমোদন দেওয়া ১২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো_ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কেয়ার মেডিকেল কলেজ, মহাখালীর ইউনিভার্সাল, গুলশানের ইউনাইটেড, নারায়ণগঞ্জের ইউএস-বাংলা, চট্টগ্রামের মেরিন সিটি, সিলেটের পার্ক ভিউ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল, খুলনার সিটি ও আদ-দ্বীন-আকিজ, রংপুরের কছিরউদ্দিন এবং রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নামে অনুমোদন দেওয়া একটি মেডিকেল কলেজও এই তালিকায় রয়েছে। এসব মেডিকেল কলেজের প্রাথমিক অনুমোদন প্রক্রিয়া আবার পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক দলীয় বিবেচনায় এসব মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ না করে স্থাপিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিলের দাবি জানিয়ে সম্প্রতি সরকারকে চিঠি দেয় চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)।
বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান সমকালকে বলেন, গুণগত মানহীন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে ১২টি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিএমএ কয়েকটি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে অবস্থানও নিয়েছিল। এর পরও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসব মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পায়। বর্তমানে দেশে ২২টি সরকারি মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি ৬৫টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে।
ভর্তিতে মেধা স্কোর কমানোর দাবি জানিয়ে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকরা। মেডিকেলে ভর্তির জন্য সর্বনিম্ন স্কোর ১২০-এর পরিবর্তে ১০০ করার দাবি জানান। তাদের আবেদন অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেই শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস বা বিডিএসে ভর্তির সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় শূন্য পেলেও এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় স্কোর ১০০ থাকলে তারা এমবিবিএস বা বিডিএসে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এ দাবি আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি সভাও করেছে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকদের এ আবেদন নাকচ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য গড়ে ৫ থেকে ২৫টি করে মোট ৪৭০ আসন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন সমকালকে বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে মালিকপক্ষের এ দাবি অযৌক্তিক। তাই যাচাই-বাছাই করে এ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। আসনসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব মেডিকেলে আসনসংখ্যা বাড়ানো হবে।