রাজপথে রাত কাটিয়ে ঘরে ফিরলেন কেজরিওয়াল

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

গৌতম লাহিড়ী, নয়াদিলি্ল

অভিযুক্ত দুই পুলিশকে ছুটিতে পাঠানোয় অবস্থান কর্মসূচি তুলে নিলেন দিলি্লর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দিলি্লর ডেপুটি গভর্নরের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।
গতকাল রাত ৮টার দিকে ডেপুটি গভর্নর নাজিব জং কেজরিওয়ালকে জানান, যে পাঁচ পুলিশের বরখাস্তের দাবি জানানো হয়েছিল তাদের দু'জনকে তিনি ছুটিতে পাঠিয়েছেন। তিনি কেজরিওয়ালকে তার কর্মসূচি প্রত্যাহারেরও অনুরোধ করেন। গভর্নরের অনুরোধে সাড়া দিয়ে দিলি্লর মুখ্যমন্ত্রী উৎফুল্ল সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, দিলি্লর জনতার জয় হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার হলেও দিলি্ল পুলিশ রাজ্য সরকারের অধীন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে বলেও জানান তিনি। এর আগে গতকাল আম আদমি সমর্থকদের সঙ্গে দিলি্ল পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
অবস্থান কর্মসূচির স্থান ঘিরে রাখে হাজার চারেক পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী। মোতায়েন করা হয় জলকামান। কেজরিওয়ালের এমন আচরণে তার সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার ইঙ্গিতও দেয় কংগ্রেস।
তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের দাবিতে সোমবার মধ্য দিলি্লর রেল ভবনের সামনে অবস্থান বা ধরনা শুরু করেন দিলি্লর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তার ৬ মন্ত্রীসহ সমর্থকরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধের দফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা থাকলেও পুলিশের বাধা পেয়ে রেলভবনের সামনেই বসে পড়েন কেজরিওয়াল। সেখানেই ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তীব্র শীতের মধ্যে কম্বল মুড়ি দিয়ে খোলা রাস্তায় প্রথম রাত কাটান তিনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে ১০ দিন বা তারও বেশি সময় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন কেজরিওয়াল।
গতকাল সকালে কর্মসূচির শুরুতেই আঘাত হানে বৃষ্টি। এ থেকে রক্ষা পেতে রাস্তার ধারে পার্ক করা নিজের গাড়িতে উঠে বসেন কেজরিওয়াল। বৃষ্টি শেষ হলে ফের নামেন রাস্তায়। সেখানেই দাফতরিক কাজও করেন তিনি। দলীয়প্রধানের সঙ্গে যোগ দিতে আসা আম আদমি পার্টি (এএপি) সমর্থকদের আটকাতে পুলিশ গতকাল গোটা এলাকা ব্যারিকেড দেয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় চারটি মেট্রো রেলস্টেশন। ফলে কর্মস্থলমুখী মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি দিলি্লর প্রাণকেন্দ্র পার্লামেন্ট, নর্থ ব্লক, সাউথ ব্লকসহ গোটা এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট। গতকাল পুলিশের সঙ্গে এএপি সমর্থকদের দু'দফা সংঘর্ষও হয়। এ সময় দুই সাংবাদিক, চার পুলিশসহ ১২ জন আহত হন। পরে এএপি কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে।
মধ্যরাতের সামান্য আগে শুয়ে ভোর সোয়া ৫টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন কেজরিওয়াল। উঠেই রাস্তায় অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'দিলি্লতে যখন এত অপরাধ, মেয়েরা যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিন্ধে কীভাবে আরাম করে ঘুমান! আমরা তাকে ঘুমাতে দেব না।' রাতে ব্যারিকেডের মধ্যে খাবার ও পানি আনতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'আমাদের দাবি অনুযায়ী আগামী রোববার প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই যদি কর্তব্যে অবহেলাকারী পাঁচ পুলিশকে বরখাস্ত করা না হয়, তাহলে লাখো মানুষ রাজপথে নামবে।'

কেজরিওয়ালের এমন কর্মকাণ্ডে দিলি্ল সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেয় কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশ বলেন, 'গত দশদিনে এএপি সরকার পরিচালনায় ব্যাপক অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এ অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে কংগ্রেস এএপিকে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।' কংগ্রেসের মুখপাত্র মীম আফজাল বলেন, 'এএপির ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে।'