প্রাথমিক শিক্ষক পুল হচ্ছে না

১৫ হাজার তরুণের আশাভঙ্গ

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

বিশেষ প্রতিনিধি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সায় না থাকার কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত 'প্রাথমিক শিক্ষক পুল' গঠন করা হচ্ছে না। এ কারণে সারাদেশের প্রায় ১৫ হাজার চাকরিপ্রার্থীর আশা ভঙ্গ হতে যাচ্ছে। এসব প্রার্থী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সার্কুলারের ভিত্তিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। এখন জানা যাচ্ছে, এই নিয়োগ সার্কুলার দেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেয়নি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এভাবে ১০ শতাংশ রিজার্ভ কোটায় শিক্ষক পুল গঠনে সম্মত নয় অর্থ মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের চিঠিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রিজার্ভ পদে কোনো নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এ জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ করাও সম্ভব নয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে 'নো ওয়ার্ক নো পে' ভিত্তিতে মাসিক ছয় হাজার টাকায় সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে। এই নিয়োগপ্রাপ্তদের কাজে যোগদানের আগে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। যেখানে উল্লেখ থাকবে, তারা কখনও সরকারি চাকরিতে স্থায়ী হওয়ার দাবি জানাবেন না।
জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রস্তাব 'কাজ নেই মজুরি নেই' ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে রাজি নয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা মনে করে, এ প্রস্তাব শিক্ষকদের জন্য মর্যাদার নয়, এতে
শিক্ষকতায় আগ্রহী তরুণদের সাড়াও মিলবে না।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ড্রপআউট কমানো ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৫ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত খরচ হতো ৭২ কোটি টাকা। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরাট সংখ্যক সহকারী শিক্ষক সি-ইন-এড প্রশিক্ষণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে ছুটিতে থাকেন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়। এ সমস্যা নিরসনে প্রতিটি সিটি করপোরেশন এলাকাসহ দেশের থানা-উপজেলায় গড়ে ৪০ জন হিসাবে মোট ১৫ হাজার খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি শিক্ষক পুল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছিল মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগের অনীহার কারণে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষক পুলে থাকা ১৫ হাজার তরুণের। পুলে থাকা অধিকাংশ তরুণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তারা আজ বুধবার এ নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সন্তোষ কুমার অধিকারী মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, 'ছয় মাসের জন্য পুল গঠন এবং মেয়াদ শেষে শূন্য পদে পুলভুক্ত শিক্ষকের স্থায়ীভাবে নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে মন্ত্রণালয় থেকে আমরা অর্থ বিভাগের মতামত চেয়েছিলাম। পুলে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের চরম আপত্তির কথা জানিয়েছে।' মন্ত্রণালয়ের অন্য এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, 'জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এভাবে শিক্ষক পুলের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। আইন, বিধিমালা বা নীতিমালা না করেই পুল গঠন করায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।'
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের আগস্টে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৭০১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে। সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য শূন্য পদের বিপরীতে প্রার্থী নির্বাচনের পর অবশিষ্ট ১৫ হাজার ১৯ জনকে উপজেলা বা থানাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষক পুলের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়। এখন এসব উত্তীর্ণ তরুণের আর শিক্ষকতার চাকরির সুযোগ থাকল না।