বাণিজ্যমন্ত্রীকে ব্যবসায়ী নেতারা

বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করুন

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রফতানির স্বার্থে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় অর্থনৈতিকভাবে দেশ যতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের কাজের সমন্বয় জরুরি। চেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকলে সবাই মিলে কাজ করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে ব্যবসা পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। তাদের পরামর্শে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হবে। ব্যবসায়ীরা অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এখন সম্মিলিতভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কয়েক মাস ধরে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে। সব রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। এখন
বিশ্বের সবাই বর্তমান সরকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা কোন রাজনৈতিক দল করেন তা মুখ্য নয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে তাদের অধিক মনোযোগী হওয়া উচিত।
এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বমন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সামনে এগিয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের চেয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি পরিশ্রম করছেন। ব্যবসায়ীদের অবদান সবচেয়ে বেশি, এ কারণেই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। সরকার ব্যবসাবান্ধব থাকায় তা সম্ভব হয়েছে। তিনি বর্তমান অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চান।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সংকট দেখা দিয়েছে। একটি চক্র আন্তর্জাতিক মাধ্যমে দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। এখন প্রধান কাজ হবে বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশ বলতে সহিংসতা, মারামারি, হানাহানির দেশ হিসেবে চিনেছে। এখন বহির্বিশ্বকে বোঝাতে হবে, দেশে ব্যবসা করার মতো পরিবেশ ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় যে ক্ষতি হয়েছে তা স্বল্প মেয়াদে সমাধান করতে হবে।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগ করবেন উদ্যোক্তারা। তবে নতুন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। বন্দরে পণ্য পেঁৗছাতে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। মহাসড়কের কাজ শেষ হচ্ছে না। ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বেড়েছে এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবসা মার খাচ্ছে। ব্যাংকের সুদের হার বেশি। ফলে ব্যাংকগুলোতে অলস টাকা পড়ে থাকলেও অধিক হারে সুদ দিয়ে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বহির্বিশ্বে অনেক নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। এ জায়গা থেকে ফিরে আসতে হবে। সবাইকে সামনের দিকে এগোতে হবে। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে। এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডবি্লউটিও) কাজ করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি স্থায়ী পেশাগত সেল থাকা প্রয়োজন। তা না হলে ব্যবসা করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান শিল্প কারখানায় নতুন গ্যাস সংযোগ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব দেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আলাদা এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ এবং অভ্যন্তরীণ বাজার চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। ইএবি সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পোশাকশিল্পে দুর্ঘটনায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরে বিদেশি ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, বহির্বিশ্বকে বোঝাতে হবে বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা জোরদার করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দেন এবং টেক্সটাইল খাত নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক সেল গঠনের দাবি জানান। বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেন, বর্তমানে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা সবাইকে দূর করতে হবে। বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন বলেন, টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামাল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তুলার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম মহাসড়কে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।